চলাচলের অযোগ্য প্রধান ও ব্যস্ত সড়ক

জুবায়ের হোসেন॥ বর্ষার পড়ে এবার ধুলোবালি ও তীব্র যানজটে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়য়েছে নগরীর প্রধান ও ব্যস্ত সড়কগুলো। টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো এখন খোয়া পাথর ও ধুলোবালিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে গেছে। তার ওপড়ে রয়েছে নগরীর অভ্যন্তরে চলাচল করা কয়েক হাজার নিবন্ধন বিহীন অবৈধ ব্যাটারীচালিত অটো রিক্সার তৈরি করা তীব্র যানজট। একে তো ঝড়ঝড়ে সড়ক তার মধ্যে একে বেকে চলা এ সকল অটোরিক্সায় যানজটের সাথে বাড়ছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। যা তৈরি করছে সাধারন নগরবাসীর জন্য প্রতিদিনের ভোগান্তি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগিরা। অন্যদিকে এমন পরিস্থিতি সামালে বিসিসি ও ট্রাফিক বিভাগ দায়িত্ব পালনে যথাযথ চেষ্টা করলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিসিসির কর্তাদের দাবী বর্ষা পুরোপুরি শেষ হলেই শুরু হবে কাজ। তবে সাময়িক সংস্কারের জন্য করা কাজের মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ট্রাফিক বিভাগের। তাদের দাবী মাটি দিয়ে সাময়িক সংস্কার কাজে বিড়ম্বনা বেড়েছে। যা তৈরি করছে যানযট, প্রভাব ফেলছে তাদের কাজে। চলাচলের বিড়াম্বনার স্বীকার এক নগরবাসী অভিযোগে জানায় এ বছরের বর্ষা ঋতুতে বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় নগরীর রাস্তাঘাটগুলোর সিংহভাগ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা চলাকালে যে পথগুলো পানি কাদার বিড়ম্বনায় পরিপূর্ণ ছিল তা শুকানোর সাথে সাথেই ঝুড়ঝুড়ে সুরকি পাথর ও ধুলোয় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি রাস্তায় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো অটো রিক্সা। যা চালাচ্ছে কিছু অপরিপক্ক চালক। যারা সড়কে চলাচলের ন্যূনতম নিয়ম কানুন সম্পর্কেও জানে না। যে যেখান থেকে পাড়ে নিজেদের মতো চলাচল করে। আর ট্রাফিক আইন অমান্য করে তাদের এমন চলাচলে ঘটে প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা। শহরে ব্যস্ত সড়কগুলোতে হয় অসম্ভব যানজট। এছাড়া তাদের নেই প্রয়োজনীয় ফিটনেস। তবে ভাঙা সড়ক ও অবৈধ অটো সকল সমস্যার প্রধান কারন জানা থাকলেও তা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ট দায়িত্বহীনতার অভিযোগও করা হয় সংশ্লীষ্টদের ওপর এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ৫৮ বর্গ কিলোমিটার নগরীর প্রায় সোয়া দু’শ কিলোমিটার ছোট বড় রাস্তায় এখন বেশির ভাগেরই বেহাল দশা। এসকল সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে বান্দরো, শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক, স্ব-রোড এর মত ব্যস্ত ও প্রধান সড়কগুলো। বর্ষার পর এই সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ছিল তবে বর্তমানে হয়েছে ভয়ংকর। খানা-খন্দ, সুরকি পাথর ও প্রচুর ধুলোয় তা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের করা মাটি চাপা মেরামত কর্মে হয়েছে হিতে বিপরীত। সিটি কর্পোরেশন থেকে জরুরী মেরামত ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়েল কাছে ২৩ কোটি টাকার একটি বরাদ্দের আবেদন করা হলে সে বিষয়ে কোন ইতিবাচক সারা পাওয়া যায়নি। সংস্কারের জন্য খন্দ(পটহোলস) গুলোতে দেয়া হয়েছে মাটি চাপা। অন্যদিকে বরিশালের সড়কে নিবন্ধনের বাইরেও চলছে কয়েক হাজার অটোরিক্সা। যেগুলো নানা উপায়ে বৈধতা প্রাপ্ত হয়ে চলাচল করে। এতেই হয় অসহনীয় যানজট যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে আলাপকালে বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুম অব্যাহত থাকায় বিটুমিনাস দিয়ে এসব রাস্তাঘাটের পরিপূর্ণ সংস্কার সম্ভব নয়। তবে সাময়িক মেরামত হচ্ছে। সাময়িক সংস্কারের কাজে কিছুটা অভিযোগ জানিয়ে ট্রাফিক পুলিশ এর উপ-পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোঃ সালেহ বলেন, যানজটের কারন ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিক্সাগুলো এখন আর নেই। সড়কের বেহাল দশায় বাড়ছে যানজট। বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে মাটি চাপা দেয়া সংস্কারে বেড়েছে বিড়ম্বনা বলে তিনি আরও জানান, সড়ক মেরামত এর বিষয়টি তার বিভাগে না তবে পরোক্ষভাবে তার বিভাগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। নি¤œমানের সংস্কার কাজের জন্যই সড়কে চলাচলের বিড়াম্বনা তথা যানজট, ছোট খাট দুর্ঘটনা বেড়েছে। কিভাবে মেরামতের জন্য স্থানীয় ট্রাফিক মন্ত্রনালয়ে জানানোও হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ সর্বদা তার দায়িত্ব পালন করে আসছে এর পরেও যদি অবৈধ অটো রিক্সা চলাচলের মত বিষয় থেকে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন আবু রায়হান মোঃ সালেহ। বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার বলেন, বর্ষা মৌসুমের পুরোপুরি সমাপ্তির সাথে সাথে কাজ শুরু হবে তবে এখনও হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষভাগে নগরীর সব রাস্তাঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত সহ স্থায়ী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। আর যানজটের কারন অবৈধ অটোরিক্সা চলাচল বন্ধে বিসিসি আগেও সক্রিয় ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে।