চরমনোই ট্রলার ঘাটের ইজারা বন্ধের দাবীতে আন্দোলনের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রায় ২০ বছর পরে আবারো ইজারা দেয়া হলো নগরীর চরমোনাই ট্রলার ঘাট (আমানতগঞ্জ খাল)। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বসবাসকারীদের কথা না ভেবেই সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ঘাটটি ইজারা প্রদান করেছেন। এর ফলে পূর্বের ন্যায় নতুন করে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের। যার ফলে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারা। এমনকি ইজারা প্রথা বাতিল না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। গতকাল রবিবার বাজার রোড, হাটখোলা ও ফরিয়াপট্টি ব্যবসায়ী সমিতি ও স্থানীয় জনগনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় এ আন্দোলনের হুমকি দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানায়, আমানতগঞ্জ খাল (চরমোনাই ট্রলার ঘাট) পূর্বে ইজারা প্রদান করা হতো। এজন্য এলাকাবাসী এবং ব্যবসায়ীদের নানামুখি ভোগান্তি এবং ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছে। এজন্য ঐ ঘাটের ইজারা বাতিল করা প্রাণের দাবী হয়ে দাঁড়ায় তাদের। এর প্রেক্ষিতে প্রায় ২০ বছর পূর্বে তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বর্তমান সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর শ্রদ্ধাশীল হয়ে চরমোনাই ও জেল খালের ইজারা প্রথা বাতিল করে দেন। সেই থেকে দীর্ঘ বছর ইজারা ছাড়াই চলছিলো দুটি ঘাটের কার্যক্রম। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার নতুন করে চরমোনাই খেয়া খেয়াঘাট দেয়া হয়েছে ইজারা। বিআইডব্লিউটিএ’র একক সিদ্ধান্ত এবং জনগন ও ব্যবসায়ীদের কথা না ভেবে ইজারা প্রথা নতুন করে চালু করায় সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন সংশ্লিষ্টরা।
এর অংশ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ’র এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় হাটখোলা, বাজার রোড ও ফরিয়াপট্টি ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতি এবং স্থানীয় সাধারন মানুষের যৌথ আয়োজনে ব্যবসায়ী সমিতি কক্ষে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী মালিক কল্যণ সমিতির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন এর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সদস্য সাবেক কাউন্সিলর  শেখ আব্দুস সোবাহান, আসাদুজ্জামান খান কামাল, মোঃ হুমায়ুন হাওলাদার, পনা সাহা ও এলাকাবাসীর পক্ষে কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় বলা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ইজারা প্রথা বাতিল না করলে বরিশালের সকল ব্যবসায়ী ও জনগনের সমন্বয়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।