‘চরবাড়িয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্পের অনুমোদন ॥ কীর্তনখোলার তীরে হচ্ছে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাঁধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গন থেকে চরবাড়ীয়া ইউনিয়নবাসীকে রক্ষায় ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ের বাঁধ নির্মানের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে যাচ্ছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বেসরকারি জাহাজ নির্মান শিল্পসহ ফসলী জমি, বাগান, বাড়ি এবং স্থাপনা। এছাড়াও আরো ৮টি নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প অপেক্ষমান রয়েছে। এসব প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে যাচাই-বাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে চরবাড়িয়া বাসীকে রক্ষায় নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের অনুমোদনের খবরে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার তাৎক্ষনিক এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বেলতলা, লামছড়িসহ বিশাল এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন চলছে। অব্যাবহ ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বহু স্থাপনা, বসত বাড়ি ও ফসলি জমি। এমনকি হুমকির মুখে রয়েছে বিসিসি’র পানি শোধনাগার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, জাহাজ নির্মান শিল্প সুন্দরবন, সুরভি ও কীর্তনখোলা ডকইয়ার্ড সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে কীর্তনখোলা সংলগ্ন চরবাড়িয়া, বেলতলা, লামছি’র ভাঙ্গন কুলের মানুষের চোখে ঘুমও নেই। রাত  কাটাতে হচ্ছে ভাঙ্গনে আশংকায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর জানায়, ভাঙ্গন প্রতিরোধে বেলতলা থেকে চরবাড়িয়া পর্যন্ত ৪ দশমিক ৫১ কিলোমিটার ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহন করা হয়। যার ব্যয় নির্ধারন করা হয় ৩৮০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রকল্পের ফাইল আটকে ছিল। সেখান থেকে ৩৯ কোটি টাকা কাটছাট করা হয়েছে। পরে প্রকল্প’র ব্যয় নির্ধারিত হয় ৩৩১ কোটি টাকা। সর্বশেষ প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে দুই দফায় যাচাই বাছাই শেষে একনেক’র অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলো। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী’র সভাপতিত্বে একনেক’র সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘চরবাড়িয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্পের জন্য ৩৩১ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী কীতর্নখোলা নদীর তীরের ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে। নগরীর বেলতলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের দক্ষিণ পাশ থেকে বাঁধ নির্মান শুরু হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আরো কয়েকটি বিশেষ ধাপ রয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পটি’র জিও জারি হওয়ার পরে ওয়ার্কিং ডিজাইন করা হবে। এর পরে দরপত্র আহ্বান এবং পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে ব্লক এবং জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর এজন্য কিছু সময় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর বলেন, কীর্তনখোলা সহ বেশ কয়েকটি নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে নেয়া আরো ৮টি প্রকল্প এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পাবে বলে আশাব্যক্ত করে তিনি বলেন, যে আটটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ প্রকল্পই বর্তমানে প্লানিং কমিশনে রয়েছে। এগুলো’র যাচাই বাচাই শেষে একনেকে প্রেরন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।