চরফ্যাশন ডাকাতের হামলায় শ্রমিক লীগ নেতা নিহত

সজিব সাহরিয়ার চরফ্যাশন ॥ চরফ্যাশনে পৌর এলাকায় বোমা ফাটিয়ে এক বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টাকালে প্রতিরোধকারী স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ডাকাতরা। শনিবার দিনগত মধ্য রাতের দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামে এই ঘটনায় ডাকাতদের হামলায় ৬ নারীসহ আরো ১২ জন আহত হয়েছে।
নিহত শ্রমিক লীগ নেতা হলো-মো. জাকির হোসেন (৩০)। সে ওই ওয়াডের ছিডু সরদারের ছেলে ও ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সম্পাদক।
নিহত শ্রমিকলীগ নেতা জাকিরের বাবা ছিডু সর্দার জানান, মহিম আলী গাজি বাড়িতে ডাকাতি শেষে গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে পড়ে ডাকাতরা। বোমা ফাটিয়ে পালানোর চেষ্টাকারী ডাকাত দলকে প্রতিরোধ করতে ঘর থেকে বের হয় যায় দুই ছেলে জাকির ও লিটন এবং ভাতিজা আলাউদ্দিন। কিছুক্ষণ পর এলাকার মানুষ গণি মুন্সির বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় জাকির, লিটন এবং আলাউদ্দিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের হাসপাতাল নেয়ার পর চিকিৎসক জাকিরকে মৃত ঘোষণা করে।
চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিম গাজির ছেলে শহীদ গাজি (৫০) জানান, রাত ১২ টা থেকে সাড়ে ১ টার মধ্যে ডাকাতরা হানা দেয়। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। গরমে অতিষ্ট শহীদ গাজি ঘর ছেড়ে সামনের পুকুর ঘাটলায় উম্মুক্ত বাতাসে অবস্থান করছিল। প্রথমে ডাকাতরা পুকুর ঘাটলায় এসে শহীদ গাজিকে কুপিয়ে জখম করে।
শহীদ গাজির মেয়ে লিপি বেগম জানান, দরজা খোলা থাকায় ২০/২৫ জনের সশস্ত্র ডাকাতরা মুহূর্তের মধ্যে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা এলোপাথারী কুপিয়ে ও পিটিয়ে লোকজনকে আহত করে টাকা ও স্বর্নালংকার নিয়ে কেটে পরে। ২০-৩০ বছর বয়সী ডাকাত দলের সদস্যদের হাতে ধারালো অস্ত্র এবং ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। কালো গেঞ্জি গায়ে এবং পরনে ছিল হাফপ্যান্ট । এই বাড়িতে ১৫/২০ মিনিটের অভিযান শেষে ডাকাতদল পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা বোমা ফাঁটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে। এসময় সামনে থেকে ডাকাতদলকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে গনি মুন্সির বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তার উপর ডাকাতরা স্থানীয় ওয়ার্ড শ্রমিকলীগ সাধারন সম্পাদক জাকির, তার ভাই লিটন এবং শ্রমিকলীগ সভাপতি আলাউদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করে নিরাপদে চলে যায়।
ডাকাতদল নগদ ২ লাখ টাকাসহ ৭ লাখ টাকার স্বর্নালংকার লুটে নেয় বলে আক্রান্ত তিন পরিবারের সূত্রে জানাগেছে ।
আহতদের মধ্যে শহিদ গাজি, বাবা মহীম আলী গাজি, স্ত্রী ফয়জুন নেছা, মেয়ে নাছিমা, আয়েশা, লিপি, নাজমা ও বোন ফাতেমা, আজিজুল হক গাজি এবং তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে চরফ্যাশন হাসপাতাল এবং শ্রমিকলীগ সাভাপতি আলাউদ্দিন ও লিটনকে শেবাচিমে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের টিম গঠন করা হয়েছে।