চরফ্যাশনে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ আদালতে মামলা

চরফ্যাশন প্রতিবেদক ॥ চরফ্যাশনের শশীভূষণে জমি জমার বিরোধকে কেন্দ্র করে অবসর প্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৭টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর  দিতে বাধ্য করার অভিযোগে ৩ জনকে আসামী করে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা হচ্ছে- শশীভূষণ গ্রামের মোখলেচুর রহমান পন্ডিতের পুত্র জহির পন্ডিত, জাহানপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন’র পুুত্র মোসলে উদ্দিন এবং মৃত খোরশেদ আলম’র স্ত্রী ফরিদা বেগম। আদালত স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধারে শশীভূষণ থানার অফিসার ইন চার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত আসামীদের প্রভাবের কারণে পুলিশ স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধারে সক্রিয় হচ্ছে না বলে বাদিজাহানপুর গ্রামের মৃত হাজি নুরু মিয়ার পুত্র মো.অজি উল্যাহ(৬৫) অভিযোগ করেছেন।
জাহানপুর কারামাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাদি মো. অজিউল্যাহ অভিযোগ করেন, ফরিদা বেগমের সাথে তার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলমান আছে। ঘটনার দিন গত ২৯ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাজার থেকে কথা বলার অজুহাতে আসামী জহির পন্ডিত বাদি অজিউল্যাহকে ডেকে শশীভূষণ বাজারের নিজ ঘরে নিয়ে যায়। এখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল ফরিদা বেগম এবং তার জামাতা মোসলে উদ্দিন। এখানে মোসলে উদ্দিন প্রথমে অজিউল্যাহর ছবি তোলে এবং পরে জহির পন্ডিত ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার হুমকী দিয়ে অজি উল্যাহকে ১৭টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে। এই ঘটনার পর অজিউল্যাহ শশীভূষণ থানায় আইনী সহায়তা প্রার্থী হলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। ফলে অজি উল্যাহ গত ৮ জুলাই জহির পন্ডিত, ফরিদা বেগম এবং সোমলে উদ্দিনকে আসামী করে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার ধারাবাহিকতায় স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধারের জন্য বাদি আদালতে আরজি দাখিল করলে গত ১৫ জুলাই আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। কিন্তু পুলিশ আদালতের নির্দেশ মতো স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আসামীরা স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহার করে অন্য কাউকে দাড় করে বাদীর ভূ-সম্পত্তির দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেয়াসহ নানান ভাবে ক্ষতি সাধনের আশংকা করছেন বাদি অজি উল্যাহ।