চরফ্যাশনের ঢাকাগামী লঞ্চে যুবতীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

চরফ্যাশন প্রতিবেদক ॥ চরফ্যাশনের গ্রাম থেকে অপহরণের পর ঢাকাগামী লঞ্চে যুবতীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় মেম্বার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে যুবতীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণধর্ষণের শিকার যুবতী এখন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ( শেবাচিম)’র ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওটিসি) চিকিৎসাধীন আছে বলে জানাগেছে। ৮ এপ্রিল রাত থেকে পরবর্তী ৭দিন যুবতী সংঘবদ্ধ এই চক্রের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবী করেছেন। যদিও যুবতীর এই অভিযোগকে সাজানো বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।শশীভূষণ থানা পুলিশ বলছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন যুবতীর অভিযোগ, ৮ এপ্রিল রাতে মেম্বার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে আব্দুল আজিজ, মালেক, নুরুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, কামাল মোল্লা, মনির, জাকিরগংরা যুবতীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন এই চক্র যুবতীকে লঞ্চযোগে ঢাকা নিয়ে যায়। মেম্বার আমজাদ ঢাকা থেকে যুবতীকে ‘উদ্ধার’ করে নিয়ে আসে এবং আসার পথে চরফ্যাশন-ঢাকা রুটের লঞ্চে যুবতীকে সে (মেম্বার আমজাদ) ধর্ষণ করে। ঢাকা থেকে ‘উদ্ধার’ করে আনার পর মেম্বার আমজাদ যুবতীকে স্থানীয় চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদারে কাছে বুঝিয়ে দেন। চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদার যুবতীকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেন। ১৫ এপ্রিল, শুক্রবার সেখান থেকে পালিয়ে বিকেল ৪টায় শেবাচিমের ওটিসিতে ভর্তি হন। গতকাল বিকেলে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত যুবতী শেবাচিমে চিকিৎসাধীন আছেন।
অভিযুক্ত মেম্বার আমজাদ হোসেন জানান, যুবতী বিবাহিত এবং তার স্বামী প্রবাসী। সে দীর্ঘদিন রাসেল নামে এক যুবকের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করে আসছিল। ঘটনার দিন রাতে গ্রামের লোকজন রাসেলসহ যুবতীকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে যুবতী পালিয়ে যায় এবং রাসেলকে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। পরদিন রাসেল এবং যুবতী ঢাকা চলে যায়। ঢাকা যাওয়ার পর যুবতীর পরিবার তাদের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে হুমকী দেয়। হুমকীর মুখে মেম্বার আমজাদ স্থানীয় চৌকিদার জামালসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন ঢাকা সদর ঘাট থেকে যুবতীকে ‘উদ্ধার’ করে গ্রামে ফিরিয়ে আনেন এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যুবতীকে তার মায়ের কাছে পৌছে দেন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)’র ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওটিসি)’র দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক সেলিম জানান, যুবতী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় একটি এজাহার প্রস্তুত করে ভোলার শশীভূষণ থানায় পাঠানোর বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে। শশীভূষণ থানার অফিসার ইন চার্জ আবুল বাসার জানান, এজাহার পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।