চরকাউয়া খেয়াঘাটে বালুর বস্তা ফেলা হবে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কীর্তনখোলার ভাঙ্গন থেকে চরকাউয়া এলাকা রক্ষায় শুরু হয়েছে প্রতিরোধ কার্যক্রম। অর্থ বরাদ্দ না থাকা সত্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় আজ ভাঙ্গন রোধে ফেলা হবে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা)। ইতোমধ্যে চরকাউয়া বাজার সংলগ্নে জিও ব্যাগ প্রস্তুত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গতকল রবিবার ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু এবং সেই সাথে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দিয়েছেন সহায়াতার আশ্বাস।
পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ক’দিন পূর্বে চরকাউয়া এলাকার বাজার সংলগ্নে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে বাজারের বিশাল অংশ কীর্তনখোলা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এতে স্থাপনা ছাড়াও ৯০ মিটার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ভাঙ্গনের আশংকায় বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বাস টার্মিনাল। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় ভাঙ্গন রক্ষায় স্থায়ীভাবে বাধ নির্মান বা ব্লোক ফেলানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ভাঙ্গন রোধে আপাতত চরকাউয়া বাজার সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ মিটার সহ মোট ১১০ মিটার জায়গা জুড়ে প্রাথমিকভাবে ভাঙ্গন রোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে গতকাল রবিবার দুপুরে বলগেট ভর্তি বালু চরকাউয়া বাজারে এনে রাখা হয়েছে। শুরু করা হয়েছে জিও ব্যাগ প্রস্তুত কার্যক্রম। তিনি নিজে ভাঙ্গন স্থলে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান ভাঙ্গন রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার বরাদ্দ তারা পাননি। তবে প্রাথমিকভাবে ভাঙ্গন রোধে ৩০ লক্ষ টাকার জিও ব্যাগ ফেলার জন্য মন্ত্রনালয়ে অনুমোদন চেয়েছিলেন। অর্থ বরাদ্দ না দিলেও মন্ত্রনালয় থেকে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় আপাতত জিও ব্যাগ ফেলার জন্য অনুমতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী ভাঙ্গন স্থলের ১১০ মিটার জায়গা জুড়ে ৬ হাজার ৮১ ব্যাগ জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রতিটি ব্যাগে ১৭৫ কেজি করে বালু থাকবে এবং এর প্রতি ব্যাগের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৫৫০ টাকা। যার মোট ব্যয় নির্ধারন হয় ৩৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫শ ৫০ টাকা। তবে স্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে যে প্রকল্প ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে তার অনুমোদন হলে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাধ নির্মান কাজ হবে বলেও জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।