চকের পুলের জয়কালী ভান্ডারের মালিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর চকের পুল এলাকার জয়কালী ভান্ডারের মালিক শম্ভু নাথ সাহা পনার স্ত্রী দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর কারন নিয়ে রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিলা সাহার (৪০) মৃত্যুর কারন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের পরস্পর বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর ঘটনা প্রচার করে তড়িগড়ি দাহ্যর চেষ্টাকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ময়না তদন্ত করেছে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুপুরে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর পর শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে রওনাকারীরা প্রতিবেশিদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে জানায়। কিন্তু পরিবার থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যার কথা প্রচার করে। তখন গৃহবধূকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এনে ভর্তির জন্য টিকিট সংগ্রহ করে কৌশলে বাসায় নেয়। তড়িগড়ি করে দাহ্যর জন্য থানায় সাধারন ডায়েরী (জিডি) করতে আসে পরিবারের সদস্যরা। জিডিতে গৃহবধূকে মানষিক প্রতিবন্ধি ও তার মৃত্যুর কারন গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।
তখন থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কালে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একেকজন মৃত্যুর কারন সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী ও বিভ্রান্তিমুলক তথ্য দেয়।
থানায় করা জিডিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যার কথা উল্লেখ করলেও তদন্তকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের এক সদস্য গৃহবধূর লাশ ছাদ থেকে উদ্ধারের কথা জানায়। আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বলে বাথরুম থেকে ও অপর একজন বলে সিড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করার পরস্পর বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়।
এছাড়াও গৃহবধূর লাশের দাহ্যর জন্য তড়িগরি করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় মৃত্যুর কারন নিয়ে রহস্যর সৃষ্টি হয়। তাই মৃত্যুর সঠিক কারন নির্নয়ের জন্য লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে আদালতের মাধ্যমে অপমৃতুর মামলা হত্যা মামলায় রুপান্তরিত করা হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই গোলাম কবির বলেন,পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ছাদ, বাথরুম, সিড়ির নিচে ও বেড রুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে গৃহবধূর গলায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
গত তিনমাস ধরে ওই গৃহবধূ মানষিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে স্থানীয়রা ও পরিবার জানিয়েছে। গৃহবধূর মধ্যে বেঁচে থাকার আগ্রহ ছিল না। সে সব সময় আতœহত্যা করার কথা প্রকাশ করতো। এই কারনে সব সময় নজরদারীর মধ্যে রাখা হতো। এমনকি রাতে ঘুমিয়ে পড়লেও একজন প্রহরায় থাকতো।
আত্মহত্যা করার মানষিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ার কারন সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি বলে এসআই গোলাম কবির জানিয়েছেন।
তবে নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, দুই সন্তানের মধ্যে একটি মানষিক প্রতিবন্ধি। এ নিয়ে দু.চিন্তা ছাড়াও দাম্পত্য জীবনে শান্তি ছিল না। সব সময় শারিরিক ও মানষিক নির্যাতনের শিকার হতো। স্বামীসহ সকলের অবহেলা ও অপরাধীর মতো আচরনের চাপ সহ্য করতে না পেরে মানষিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যুর কারন বিষপানে হয়েছে বলে চকের পুল এলাকায় প্রচার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। গৃহবধূর স্বামী পনা প্রভাবশালী ও বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
এমনকি পুলিশকে প্রভাবিত করার জন্য বিনা ময়না তদন্তে দাফনের আবেদন করেছিলো। ওই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারনে ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে প্রভাব ফেলে মৃত্যুর সঠিক কারন পরিবর্তন করে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বামী ও তার প্রভাবশালী স্বজন বন্ধু বান্ধবরা।