ঘুষ তহবিলে উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পদোন্নতি পাওয়াদের পদায়নের জন্য মহানগর পুলিশের জনবলের কোঠা বাড়ানো অনুমতির জন্য দেয়া “ঘুষের তহবিল” সংগ্রহের অভিযোগে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিল্লুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তাকে মহানগর পুলিশ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট পুলিশ রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সুপারিশ পাঠানোর পর গতকাল বুধবার আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসদাচরণ, দুর্নীতি ও পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহছান জানিয়েছেন। যার সত্যতা স্বীকার করে মহানগর পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, ঘুষের তহবিল সংগ্রহের জন্য কমিটি গঠন করায় গত মঙ্গলবার আরো ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তারা হলো- মহানগর পুলিশের ৩ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আনিসুজ্জমান, মো. মনির হোসেন ও আবু হানিফ, নায়েক কবির হোসেন, কনস্টেবল শহীদুল ইসলাম, বাবুল হালদার, আব্বাস উদ্দিন, আরিফুর রহমান, তাপস কুমার মন্ডল ও দোলন বড়াল।
এই ঘটনা তদন্তে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রধান হচ্ছে-উপ-পুলিশ কমিশনার সোয়েব আহম্মেদ। এছাড়াও পুলিশের সিকিউরিটি সেল ঘটনা তদন্ত করছে। উভয় কমিটি তাদের নিজস্ব আঙ্গিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত নভেম্বরে মহানগর পুলিশের ৮০০ সদস্য পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ায় পদোন্নতি তালিকায় নাম উঠে ৩৩২ সদস্যর। এর মধ্যে কনষ্টেবল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২৩০ সদস্য উত্তীর্ন হয়। কিন্তুমহানগর পুলিশ পূনার্ঙ্গ না হওয়ায় তাদের পদায়নের জন্য পদ শুন্য হয়নি। তাই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে পদোন্নতির তালিকায় নাম থাকলেও ২৩০ সদস্য কনষ্টেবল পদে থাকতে বাধ্য হয়।
তাই মহানগর পুলিশের জনবল বাড়ানোর সদর দপ্তরে চাপা পড়ে থাকা প্রস্তাবনা ফাইল মন্ত্রনালয়ে পাঠানো ও তা অনুমোদনের জন্য ঘুষ দেয়ার তহবিল গঠন করা হয়। বরখাস্ত হওয়া ১০ সদস্য নিয়ে গঠিত কমিটি এএসআই থেকে এসআই, নায়েক থেকে এএসআই এবং কনস্টেবল থেকে নায়েক পদে পদোন্নতির জন্য উত্তীর্ন হওয়া ২৩০ সদস্যর কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। এতে অবৈধভাবে গঠিত তহবিলে মোট ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়। পরে ওই টাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকে এএসআই আনিসুজ্জামান, নায়েক কবির হোসেন ও কনস্টেবল বাবুল হালদারের নামে হিসেব নম্বরে তা জমা করা হয়।
পুলিশের সদর দপ্তরের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। ব্যাংকের ওই হিসেবে নম্বরে জমা রাখার টাকার ১৭ লাখ পাওয়া গেছে। কিন্তু বাকী ৬০ লাখ টাকা কোথায় বা কার কাছে রয়েছে। তার সঠিক কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।