ঘাটে বিক্রি হচ্ছে পচা ইলিশ শিকারে যাচ্ছে জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মা ইলিশ শিকারের ১১ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সাথে সাথে বরিশাল নগরীর মোকামসহ বিভাগের সকল ঘাটে প্রচুর মাছ উঠেছে। তবে এসব ইলিশ মাছের সিংহভাগে পচন ধরেছে। তাই দামও কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে জেলেরা নতুন উদ্যমে মাছ শিকারে নেমে পড়েছে। বিভাগের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক জেলে গভীর সমুদ্রে, পদ্মা, মেঘনা, বিষখালী, তেতুলিয়া নদীসহ আশে পাশের শাখা নদীতে মাছ শিকার করছে বলে জানিয়েছেন জেলে সমিতির সাধারন সম্পাদক।
নগরীর পোট রোড ইলিশ মোকামের আড়তদার নীরব হোসেন টুটুল বলেন, শুক্রবার মোকামে ২ হাজার মনের বেশি মাছ উঠেছে। যার সিংহভাগে পচন ধরেছে। তাই মাছের দাম  কম ছিলো।
তিনি বলেন, শুক্রবার মোকামে গ্রেট সাইজের ইলিশের প্রতি মন ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া এলসি ১৮ হাজার, ভেলকা ১৪ হাজার ও জাটকা ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মাছ শিকারের যাওয়া সম্পর্কে নীরব হোসেন টুটুল বলেন, পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম থেকে দেড়শ ট্রলার মাছ শিকারের জন্য নদীতে গেছে।
এর সত্যতা স্বীকার করেছেন কুয়াকাটর-মহীপুর –আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার আলী মোল্লা। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঘাটে মাছ আসার কথা না। তবুও ঘাটে হাজার মনেও উপর মাছ ক্রয় বিক্রয় হয়েছে। এসব মাছে পচন ধরেছে জানিয়ে সভাপতি বলেন, এই জন্য দাম অনেক কম। তিনি বলেন, এখানে শুক্রবার ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা প্রতিমন বিক্রি হয়েছে।
আনসার আলী মোল্লা বলেন, নতুন উদ্যমে মাছ শিকারের জন্য বৃহস্পতি ও শুক্রবার অর্ধ শতের বেশি ট্রলার সমুদ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। আরো শতাধিক ট্রলার যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
পাথরঘাটার মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের ঘাট ব্যবস্থাপক সোলায়মান শেখ বলেন, কেন্দ্রে বিক্রি হওয়া মাছের সিংহভাগ পচন ধরেছে। তাই কম দামে বিক্রি হয়েছে। কি পরিমান মাছ বিক্রি হয়েছে তার হিসেবে জানাতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির সাধারন সম্পাদক আনোয়ার সিকদার বলেন, প্রায় আড়াই লক্ষাধিক জেলে নদীতে মাছ শিকারে নেমেছে। এর মধ্যে মেঘনার ভোলা থেকে চাদপুর পর্যন্ত অন্তত লক্ষাধিক জেলে মাছ শিকার করছে। এছাড়া পদ্মায় রয়েছে লক্ষাধিক জেলে। বিষখালী ও তেতুলিয়াসহ ছোট ছোট নদীতে অর্ধ লক্ষাধিক জেলে রয়েছে। প্রত্যেক জালে ৮ থেকে ১০ টার বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আনোয়ার সিকদার।
তিনি জানান, বর্তমানে মাছে দাম একটু কম। আগে যে ইলিশ প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেই মাছ এখন ৫ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আলীপুর ঘাটের এফভি সোনার তরী নামের মাছ ধরা ট্রলারের মাঝি রুস্তুম আলী জানান ১১ দিন অলস সময় কাটিয়েছি। এখন সাগরে রওনা হবো। এফভি সবুজ ট্রলারের জেলে রহমন জানান “মোগ কপাল খারাপ” এ বছর ইলিশ মৌসুমের শুরু থেকে সাগরে মাছ পাই নাই। এহন জালে ইলিশ ধরা দিতে শুরু হরছে। “ডর হরে আবার ডাহাইতরা মোগো ধইররা না লইয়া যায়”।