গড়িয়ার পাড়ে যাত্রা-জুয়া বন্ধে এটর্নী জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রায় দুই বছর ধরে চলা নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকার যাত্রা-জুয়া বন্ধে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। নতুন পুলিশ কমিশনারের যোগদানের পর তারা নৈতিকতা অবক্ষয়কারী যাত্রা জুয়া বন্ধে এটর্নি জেনারেলের কাছেও আবেদন করেছেন। দেড় শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত এক আবেদনপত্র নতুন পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই যাত্রা জুয়া বন্ধে শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছিলো এলাকার বাসিন্দারা। বন্ধের জন্য নানা কর্মসূচী পালন করে ব্যর্থ হয়েছে তারা। অভিযোগ রয়েছে মহানগর পুলিশের সাবেক বড় কর্তার ছত্রছায়ায় ওই যাত্রা জুয়া চলতো। এই কারনে প্রতিবাদকারীদের নেতৃত্ব দাতাদের নানা হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। যাত্রা জুয়ার আয়োজনকারীরা এই জন্য দম্ভক্তি করে বলেছে ‘কেউ বন্ধ করতে পারবে না এই যাত্রা জুয়া’। কিন্তু এলাকাবাসীর নৈতিকতা অবক্ষয়ের হাত থেকে মানুষকে রক্ষায় তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন পুলিশ কমিশনারের আগমনে নতুন উদ্যমে তারা ওই অপকর্ম বন্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। অভিযোগকারীরা জানায়, সাবেক পুলিশ কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন এর সহায়তা নিয়ে ২০১২ সালে যাত্রা ও জুয়ার আসর শুরু করে। খোদ মোঃ সামসুদ্দিনই এর উদ্বোধন করেছিলেন। তবে শুরুর পর থেকেই সেখানে যাত্রার নামে অশ্লিলতা ও হাউজির নামে বিভিন্ন ধরনের জুয়া চলছিলো। যা এলাকার তরুন থেকে বৃদ্ধ সবাইকেই টেনেছে অবক্ষয়ের মুখে। শুধুমাত্র এই যাত্রা জুয়ার জন্য গড়িয়ারপাড় এলাকায় বেড়েছে ছিনতাই, ইভিটিজিং, রাহাজানি সহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড। এলাকাবাসী ঠিকমত নামাজ আদায়ও করতেও পারতেন না যাত্রা-জুয়ার মাইকের কারনে। শুধু অশ্লিল নৃত্য ও জুয়া চালিয়েই খ্যান্ত ছিলো না এর আয়োজক কর্তৃপক্ষ। একই সাথে সেখানে চলছে দেহ ব্যবসা। যার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে আয়োজককারী নিজেই। তাই এ সকল বন্ধে স্বোচ্চার হয় এলাকার ওলামায়েকেরাম সহ সর্বস্তরের জনগণ। এর জন্য ৬ জুন মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধও করা হয়। তবে তাতে কোন লাভ হয় নি। সাবেক পুলিশ কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন যাত্রা জুয়ার আয়োজকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার ভাগ পাওয়ায় সবকিছু বৈধ ব্যবসায় বলে বারবার জানানো হয়। তবে ১৯ জুন হাইকোর্টের একটি রিটের মাধ্যমে জুয়া ও হাউজি অবৈধ ঘোষণা করা হয়। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, এতো দিন যাত্রা জুয়া হাউজি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও কাজী রাসেল শুধুমাত্র সাবেক পুলিশ কমিশনার সামসুদ্দিনের ছত্রছায়ায় তা নির্ভয়ে চালিয়ে আসছিলো। কিন্তু এখন নতুন পুলিশ কমিশনার এসেছেন। তিনি অবশ্যই ৩০নং ওয়ার্ডের সকল জনগনের প্রানের দাবি যাত্রা জুয়ার অবশ্যই বন্ধ করবেন। তাই নতুন আশায় এলাকাবাসী সকলেই গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীর মাধ্যমে এটর্নি জেনারেল বরারব দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর আশা এবার হয়তো কাজী রাসেলের এই যাত্রা জুয়ার আসর অবশ্যই বন্ধ হবে।