গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু

সিদ্দিকুর রহমান ॥ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করার অঙ্গিকার নিয়েই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় নগরীর নথুল্লাবাদ শের-ই-বাংলা সড়কে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অডিটরিয়ামে স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষাবিদদের সাথে মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দা আরজুমান বানু নার্গিসের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর কবির নানক-এমপি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অজয় কুমার দাস।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দেয়ার লক্ষ্যে মতবিনিময় কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, শিক্ষাজীবন থেকে যারা আমাকে পিতার মত ¯েœহ করেছেন, এখানে উপস্থিত সেসকল শিক্ষক-গুরুজনদের সামনে বক্তৃতা দেয়ার সৎ সাহস আমার নেই।
তিনি বলেন, বরিশালের সন্তান হিসেবে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। বাণিজ্যিক মানসিকতা বা সার্টিফিকেট বিক্রির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। শুধুমাত্র অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ছেলে মেয়েদের জন্যই স্বল্প ব্যয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৩০ জন ছাত্রÑছাত্রী নিয়ে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি তার একাডেমিক কাযক্রম শুরু করেছে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বর্তমানে বিবিএ, এমবিএ, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইন বিষয়ে ব্যাচেলার ও মাষ্টার্স পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামীতে ছাত্রÑছাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী আরো নতুন নতুন বিষয় চালু করা হবে। এছাড়াও যেসকল শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসিতে মোট জিপিএ-১০ এবং ৭ রয়েছে তাদেরকে যথাক্রমে ৩০ ও ১৫ ভাগ ছাড় দেয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বহিঃবিশ্বে অসংখ্য ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে এর সংখ্যা খুবই কম। বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের উন্নয়নের ধারা তৈরী করতে যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে তার ধারা যদি বজায় থাকে তাহলে এই দেশ আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বে রূপান্তরিত হবে।
এছাড়াও আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে বরিশালে গ্লোবাল একাডেমি ও কলেজ এর যাত্রা শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে গ্লোবাল পরিবার।
জাহাঙ্গীর কবির নানকের পুত্রবধূ ও গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সারাফ আনিকার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মো. হানিফ, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব অধ্যাপক এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক, ঢাকা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক মো. হানিফ বলেন, আমি বিশ্বাস করি কোন অর্থের লোভে নয়, বিশ্ব মানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৫৭ বছরের শিক্ষকতার জীবনে এই অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতিকরন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আর সেই সংগ্রামের ফল আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এসময় তিনি আরো বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এখানে একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কেউ করবে সেটা প্রত্যাশা ছিল। আর সেই প্রত্যাশা এখন বাস্তবে রূপ দিয়েছে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ পরিবার। এজন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব অধ্যাপক এম মোয়াজ্জেম হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, আমার শিক্ষক জীবন গর্বিত হয়েছে। কারণ, আমার ছাত্রই এখানে উচ্চ শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি বলেন, বৃটিশ আমল থেকে এই বরিশাল নগরী, শিক্ষার নগরী নামে বহু সুনাম কুড়িয়েছে। গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এই ভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে বরিশালে চিরন্তন হয়ে থাকবে।
এসময় তিনি আরোও বলেন, বর্তমানে জিপিএর হার বৃদ্ধি পেলেও, মানসম্মত শিক্ষার মান সমান সংখ্যক হারে বৃদ্ধি পায়নি ।
বর্তমান সরকার নৈতিকতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে শিক্ষানীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের সফলতা অর্জন করেছে। তাই পাশের হার বৃদ্ধি না করে, উন্নত শিক্ষা অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এদিকে বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া আধুনিক শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব নয়। তাই সে রকমের একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। সেজন্য আমরা গর্বিত।
তিনি বলেন, ১২৯ বছর পূর্বে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত এ অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্রজমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর ১২৯ বছর পর ঐ কলেজের শিক্ষার্থীই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা আরোও উন্নত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জাহাঙ্গীর কবির নানকের মেয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস আমরিন রাখি, ট্রেজারার অধ্যাপক তপন কুমার পাল, রেজিষ্ট্রার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম, বরিশাল প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম ইমানুল হাকিম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ফজলুল হক, জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফুন নাহার আফরোজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সচীন কুমার রায়, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনায়েত হোসেন, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তপংকর চক্রবর্তী প্রমুখ।