গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে পুরো দেশটাকেই কারাগারে পরিণত করেছে আ’ লীগ সরকার-মীর্জা আব্বাস

সিদ্দিকুর রহমান ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস বলেছেন, দেশে আজ বাকস্বাধীনতা নেই, আমরা ঘরে বাইরে কোথাও কথা বলতে পারি না, বক্তব্য রাখতে পারি না। গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে পুরো দেশটাকেই একটা কারাগারে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
এই সরকার বিদেশী কোন প্রভুর স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের সবকিছুই বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ গত ১০-১২ বছরে যে প্রচুর টাকা লুটপাট করেছে, তা দলটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে প্রমাণ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস ।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে মহানগর বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।
মীর্জা আব্বাস বলেন, লেভেল প্লেয়িং (নিরপেক্ষ) ফিল্ড তৈরী না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি-না সে সিদ্ধান্ত তখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে সুযোগ দেয়া হবেনা। বিএনপি যেকোন একটি পন্থা খুঁজে বের করবে।
মির্জা আব্বাস আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার হচ্ছে স্বৈরাচারী সরকার। এই স্বৈরাচারী সরকারের মতো আর কোনো সরকার বাংলাদেশে ছিল না। তাই তাদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে তাদেরকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে।
তিনি বলেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয় আওয়ামী লীগের পলায়ন বার্ষিকী পালন করা হবে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের একটাই কথা যত মানুষ মেরে ফেলা দরকার মেরে ফেলো তারপরেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। কর্মীসভায় মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে রাজপথে নামলে আগে লাঠি চার্জ করা হলেও এখন সরাসরি গুলি করা হচ্ছে। গুলি করে পাখির মত মানুষ মেরে ফেলছে এ সরকার। আর যাকে রাজপথে না মারতে পারছে, তাকে রাতের আধারে গুম করা হচ্ছে। অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম ও খুন করা হয়েছে । গুম খুনের জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। বিনা বিচারে কেউ রেহাই পাবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের একটাই কথা, যত মানুষ মেরে ফেলা দরকার মেরে ফেলো। তারপরেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে।
মীর্জা আব্বাস তার বক্তৃতায় দলের ভেতরে অনৈক্য প্রসঙ্গে বলেন, দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করতে হবে। পদ-পদবী নিয়ে যারা অনৈক্যর সৃষ্টি করেন, চেয়ার নিয়ে টানা হেচড়া করেন, যারা দলের শ্লোগান বাদ দিয়ে ব্যক্তির শ্লোগান দেয়, তারা বিএনপির প্রকৃত কর্মী নয়। তাছাড়া যারা দলের জন্য দীর্ঘদিন নানা হামলা মামলার শিকার হয়েছে তাদেরকে মূল্যায়িত করা হবে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ তীলে আজীবন ক্ষমতায় থাকার উদ্ভট চিন্তাভাবনা করছে। তাদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেওয়া যাবেনা। চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া খুব শিগগিরিই আন্দোলনের ডাক দেবেন। আর এই আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
এদিকে কর্মীসভায় স্থানীয় বিএনপির নানা বিষয়ে অনৈক্য নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এনিয়ে সভায় দফায় দফায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কর্মী সভায় মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, স্থানীয় বিএনপিতে ঐক্য রয়েছে। কিন্ত কেন্দ্রের কিছু কিছু সিদ্ধান্ত তাদের মধ্যে অনৈক্যের বীজ ঢুকিয়ে দেয়। বিশেষ করে সম্প্রতি ঘোষিত জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় তিনি কেন্দ্রিয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে ভবিষ্যতে মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে মনোনিত করার আহবান জানান। তা না হলে মহানগর বিএনপি নয়, তথা দক্ষিনাঞ্চলে বিএনপির নেতৃত্বে ধসের সৃষ্টি হবে । তাছাড়া যার যোগ্যতা রয়েছে তাকে একাধিক পদে রাখতে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান তিনি।
এদিকে কর্মী সভায় কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান তার বক্তৃতায় বলেছেন, বিগত দিনে এই বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে যে সব ছাত্রনেতারা ত্যাগ শিকার করেছে, মামলা-হামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদেরকে আগে প্রাধান্য দেয়া হবে। এক্ষেত্রে তৃর্র্নমূল বিএনপির জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দের পরামর্র্শ গ্রহন করা হবে। তাছাড়া যে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে মামলা নাই, তারা ছাত্রদলের কর্মী হতে পারে না। ছাত্রদলের সুপ্রীম ক্ষমতায় আসার কোন অধিকার তাদের নেই। বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানান ছাত্রদলের কেন্দ্রিয় সভাপতি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, আকন কুদ্দুসুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার, জেলা দক্ষিন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এবায়দুল হক চান, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ, , বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক ,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল তারিন, দক্ষিন জেলা সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন, শ্রমিক দলের মহানগর সাধারন সম্পাদক মো. ফয়েজ আহমেদ, মহিলা দল মহানগর নেত্রী শামীমা আকবর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহবুবুর রহমান পিন্টু, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. মোখলেছুর রহমান বাচ্চু, মহানগর যুবদলের সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন প্রমুখ। এদিকে কর্মী সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, ছাত্রদলের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এস এম কবির, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্বাস উদ্দিন বাবলু, মোঃ মনিরুল আহসান মনির, এ্যাড. মোঃ মহসিন মন্টু, সৈয়দ আহসানুল কবির হাসান, আলহাজ্ব কে এম শহিদুলাহ, মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ, মোঃ আলমগীর হোসেন আলম, সরদার রফিক আহম্মেদ রুনু, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আকবর, কোতয়ালি বিএনপি সভাপতি এ্যাড. এনায়েত হোসেন বাচ্চু, বাবুগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম প্রিন্স প্রমুখ। আজ সকালে একই স্থানে উত্তর জেলা বিএনপি এবং বিকেলে দক্ষিন জেলা বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে মহানগর বিএনপির কর্মীসভায় অনেক কাউন্সিলর যোদগান করেননি। এদের মধ্যে অনেকে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে দাওয়াত পাননি। এরমধ্যে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ সিকদারও যাননি।