গ্রেফতার আতংকে সামাজিক কর্মকান্ড থেকেও বঞ্চিত বরিশাল বিএনপি

জুবায়ের হোসেন॥ গ্রেপ্তার আতংক ও কর্মী সংকটের কারণে বিজয় আনন্দ এড়িয়ে গেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা। আনন্দ তো দূরের কথা গ্রেপ্তার আতংকে নিজ ঘরে বসে খেলা উপভোগের সুযোগটিও নিতে পারেননি তারা। গুটি কয়েক নেতা কর্মী দেশের জয়ের আনন্দে অংশ গ্রহণের ইচ্ছে থাকলে তা করতে পারেনি কর্মী সংকটে। কেন্দ্রের কর্মসূচি পালনে বরাবরের ন্যায় ব্যর্থ জেলা ও মহানগরের বিএনপি নেতা কর্মীরা দুই কারণে এবার ব্যার্থ হয়েছে বিজয় আনন্দের অংশ নেয়া থেকেও। এ সকল অভিযোগ করেছে দলের তৃণমূল নেতা কর্মীরা।
তারা অভিযোগে আরও জানায়, বিএনপির দুর্গ খ্যাত বরিশাল বিএনপি সেই সুনামটি এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এ অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে। দলের টানা আন্দোলনের ডাকে প্রথম থেকেই ব্যর্থ ছিল নগর ও জেলা বিএনপি। বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংস ঘটনার কারনে নিস্কিৃয় থেকেও পার পাননি তারা। একাধিক মামলার আসামী হয়ে প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই রয়েছেন আত্মগোপনে। আর যারা প্রকাশ্যে তারা রয়েছেন সর্বদা গ্রেপ্তার আতংকে।
এছাড়া ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ দিনে আটকও হয়েছে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। চলমান নাশকতা মামলাগুলোর নামে-বেনামে আসামী রয়েছে সহ¯্রাধিক ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মী। তাই এখন গ্রেপ্তারই এখানকার নেতাকর্মীদের জন্য প্রধান আতংক। এই আতংকেই বিজয় উল্লাসে ছিলনা ২০দল বলেও জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবী বিজয় মিছিল থেকে নাকি তাদের গ্রেপ্তার করা হত।
৯ মার্চ যখন টাইগাররা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পদার্পণ করে তখন পুরো দেশের সাথে বিজয় আনন্দে উল্লাসিত ছিল নগরী। রাজনৈতিক অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সকলেই প্রকাশ করেছে তাদের বিজয় আনন্দ। তবে ১০ তারিখের হরতাল শিথিল করে বিজয় মিছিল করার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে নগরে ছিলনা ২০ দলের কোন নেতাকর্মী। এমনকি কর্মসূচি পালনে ডাক দেয়ার মতো কেউ নেই বলে জানিয়েছে তারা। কর্মসূচিতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে গ্রেপ্তার আতংককেই বড় কারণ বলেও জানিয়েছে ২০ দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। এর সাথে ছিল কর্মী স্বল্পতার বিষয়টিও। তাই দেশের বেশ কয়েক স্থানে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালিত হলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি বরিশালের নেতাদের।
একাধিক গাঢাকা দেয়া নেতার সাথে এ বিষয়ে কথা বলে তারা বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে গেছেন। তবে কেউ কেউ স্বীকার করেছেন সত্যতাও। তাই এখন কেন্দ্রের কর্মসূচির নামে মাঝে মধ্যে হঠাৎ করে গণমিছিল আর বিজয় মিছিলের বদলে কয়েকটি শুভেচ্ছা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েই দায়িত্ব শেষ বরিশাল জেলা ও মহানগর ২০ দলীয় জোট, বলেও অভিযোগ তৃণমূলের।
এ সকল বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে, গ্রেপ্তার আতংকের বিষয়টি একেবারেই সঠিক। তবে কর্মী সংকট এর বিষয়টি ঠিক নয়। মূলকথা হচ্ছে আতংক। বর্তমানে বরিশালের বিএনপি নেতা কর্মীদের বিভিন্ন নাশকতা মামলার আসামী করা হয়েছে। প্রত্যেকটি মামলার নামে সহ অজ্ঞাত আসামী রয়েছে। কর্মীরা তাই আতংকিত যে তাদের গ্রেপ্তার করে ওই অজ্ঞাত স্থানে নাম অন্তর্ভূক্ত করা হবে। ১০ তারিখের বিজয় মিছিলের প্রসংগে তিনি বলেন, বিজয় মিছিলের ব্যাপারে একটি সভা করা হয়েছিল। সিদ্ধান্তও হয়েছিল দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করার। তবে একই দিনে আ’লীগের মিছিল থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এছাড়াও ছিল প্রশাসনের অনুমতি পাবার বিষয়টিও। তবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জেলা-উপজেলায় মিছিল করার নির্দেশনা ছিল। বর্তমান ২০ দলীয় জোটকে প্রশাসনের ইচ্ছে মত চলতে হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, প্রসাশনের অনুমতি দেয়া নিয়ে তালবাহানার বিষয়টিও অন্যতম একটি কারণ। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমিছিলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মিছিলটি দলীয় কার্যালয় সামনে থেকে বের করার জন প্রশাসনের অনুমতি গত বুধবার রাতে পান তারা। তবে দুপুরে মিছিল শুর”র কিছু পূর্বে তাদের সেই মিছিল দলীয় কার্যালয় না করে অন্যত্র করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এমন কারণে কর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আসলে নেতাদের কোন ত্রুটি নেই আর বরিশালের বিএনপি এখনও একটি সাংগঠনিক দল বলে এবায়দুল হক চাঁন বলেন, গ্রেপ্তার আতংক আর প্রশাসনের কাছে জিম্মি হয়েই পথে নামতে পারছে না বরিশালের বিএনপি নেতার্মীরা।