গ্রেপ্তার আতংকে পুরুষ শূন্য আটহাজার গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল সদর উপজেলার আটহাজার গ্রাম। ঐ গ্রামের চাপিলাদি গালর্স স্কুল হতে অন্তরা লঞ্চঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালীদের নগ্ন হস্তক্ষেপে হামলা ও মামলায় গ্রেপ্তার আতংকে অনেকেই নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রয়াত মেয়র ও সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের প্রচেষ্ঠায় আটহাজার সাকিনস্থ চাপিলাদি গালর্স স্কুল হতে অন্তরা লঞ্চঘাট পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং নির্মাণ কাজে দুই বছরেরও অধিক সময় আগে দরপত্র আহবান করা হয়। ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে কাজটি বাগিয়ে নেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল।
পরবর্তীতে তিনি কাজটি চরমোনাই ও সায়েস্তাবাদ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার কাছে বিক্রি করে দেন। কাজ পেয়ে দীর্ঘ সময় ফেলে রেখে। এর পরে তারাও আবার নগরীর ভাটিখানার বাসিন্দা বিএনপি সমর্থক কাজী হারুন অর রশিদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
হারুনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, মীর্জা আবুয়াল হোসেন, এস এম ইদ্রিস মিয়া, মিন্টু ও হারুন মিলে এলজিইডি’র নিয়ন্ত্রণাধীন ১.৫ কিলো মিটার রাস্তার কাপেটিং এর কাজ দুই বছর আগে শুরু করে। কিন্তু সময় মতো কাজ শেষ না করে তারা হঠাৎ করে অনেকটা তড়িৎ গতিতে কাজ সম্পন্নের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করে। দীর্ঘ সময় কাজ ফেলে রাখা ও নিম্ন মানের কাজ হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় এর প্রতিবাদ করেও কোন ভাবেই নিম্ন মানের কাজ থেকে ঠিকাদার ও তাদের লোকজনদের বিরত রাখতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১২ মে স্থানীয়দের কয়েকজন নিম্নমানের কাজ বন্ধের জোরালো দাবি জানালে ঠিকাদার হারুন ও তার লোকজনের সাথে বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়। হারুন বিষয়টি তার পার্টনার আবুয়াল হোসেনকে জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ ওই রাতেই হারুন বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামী করে কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে থানার সাথে যোগাযোগ রাখেন আ’লীগ নেতা হালিম রেজা মোফাজ্জেল। তার পরামর্শে রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই-একজনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অন্য আসামীদের খোঁজে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকায় আট হাজার গ্রাম অনেকটা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, অনেকটা পুলিশী প্রহরায় ঠিকাদাররা রাত দিন শ্রমিক খাটিয়ে কাজ উঠিয়ে নিচ্ছেন। যারা ঠিকাদার হারুনকে শেল্টার দিচ্ছেন তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। অনেকে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আজ শওকত হোসেন হিরন বেঁচে থাকলে ঠিকাদাররা এতো নিম্নমানের কাজ করতে সাহস পেতোনা। এ ব্যাপারে সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ’র সহধর্মীনি সাংসদ জেবুন্নেচ্ছা আফরোজের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আটহাজার গ্রামের অসহায় মানুষগুলো।