গ্রেপ্তার আতংকে কাউনিয়া বিসিক এলাকা পুরুষ শূন্য উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা

রুবেল খান ॥ কাউনিয়ায় পুলিশ, বিসিসি কর্মী এবং দখলদারদের সংঘর্ষের ঘটনায় দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের পর ওই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে কাউনিয়া বিসিক এলাকা প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
মামলার অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। বিশেষ করে যুবক বয়সীদের খোঁজ মিলছে না এলাকায়। মহিলারাও ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না । বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
তবে ঘটনার সময় ৫ জন আটক হওয়া ছাড়া গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত আর কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য আসামীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোটা কাউনিয়া এলাকা জুড়ে থানা এবং ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউনিয়া থানা’র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা।
সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর কাউনিয়া থানাধিন হাউজিং এবং টেক্সটাইল এলাকায় রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল এর নেতৃত্বে অভিযানে সহযোগিতা করেন থানা, আর্মড পুলিশ সদস্য এবং বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযান চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে টেক্সটাইল এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাঁধা দেয় স্থানীয় দখলদাররা। এমনকি তারা রাস্তায় ইট এবং গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন জালিয়ে অভিযানকারীদের অবরুদ্ধ’র পাশাপাশি পুলিশ এবং বিসিসি’র উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলা করে। এ নিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় দখলদারদের মাঝে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি বেগতিক হলে পুলিশ শতাধীক রাউন্ড ফাকা গুলি এবং লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশ ও বিসিসি কর্মচারী এবং এলাকাবাসী সহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশ্রাফ বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় ২৬ জন নামধারী এবং দেড় হাজার জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে আটক করা ৫ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান এবং পুলিশ ও বিসিসি’র কর্মচারীদের উপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা।
তিনি বলেন, দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার দিন ৫ জন ছাড়া গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে হাউজিং, টেক্সটাইল এবং বিসিকি এলাকা সহ গোটা কাউনিয়া এলাকায় পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি ছাড়াও জড়িতদের গ্রেপ্তারে থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঘটনার পর থেকেই কাউনিয়া হাউজিং এবং টেক্সটাইল সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা একেবারেই পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। ঘরে মহিলা থাকলেও তারাও গ্রেপ্তার আতংকে বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছে না। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার দোকান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। অবশ্য কেউ কেউ বলছেন শুক্রবার বন্ধের দিন বিধায় গতকাল কাউজিং এবং টেক্সটাইল এলাকার অধিকাংশ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছে অজ্ঞতনামা আসামী করায় সাধারন মানুষকেও গ্রেপ্তার করে ওই মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হতে পারে। সেই ভয়ে এলাকার অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে আছেন। বিশেষ করে যুবক বয়সীরা এলাকা ছাড়া হয়েছে। মাঝে মধ্যে রাস্তায় প্রবীনদের দেখা মিললেও যুবকরা এলাকায় নেই বললেই চলে। এসব কারনে গতকাল টেক্সটাইল এবং হাউজিং এলাকা অনেকটা জনশূণ্য দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা বলেন, যারা সরকারি কাজে বাঁধা এবং হামলার সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের ভয়ের কোন কারন নেই। আমরা নিরিহ কোন এলাকাবাসীকে অযথা হয়রানি কিংবা মামলার আসামী করবো না। যারা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট শুধুমাত্র তারাই মামলার আসামী এবং তাদেরই গ্রেপ্তার করা হবে। ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।