গ্রামীন ব্যাংকের রায়পাশা শাখায় দুর্নীতির ৪৭ মামলার একটির অভিযোগপত্র জমা দুদকের

সাইদ মেমন॥ গ্রামীন ব্যাংকের সদর উপজেলার রায়পাশা শাখায় ঋনগ্রহীতা ও আমানতকারীদের টাকা আতœসাতে দুদকের করা ৪৭ মামলার একটির অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বাহাদুর আলম। এই মামলায় সাবেক ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসান ও অফিসার মো. শাহআলমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দেলোয়ার যশোরের ছাতিয়ানতলা এলাকার জয়নাল আবেদীন দফাদারের ছেলে আর শাহআলম শরনখোলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের হাতেম আলী পাহলানের ছেলে। পলাতক এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মালামাল ক্রোক ও গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারীর সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা বাহাদুর আলম।
গত বছর সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ টাকা আতœসাত করার অভিযোগে দুদকের  সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ৪৭ মামলা করে। এর মধ্যে আমানতকারীদের ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা আতœসাতের মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। এই মামলা কোতয়ালী মডেল থানায় করা হয়েছিলো ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর।
অভিযুক্ত সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে ২০১১ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত  রায়পাশা শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই সময়ে তিনি ও শাহআলম আমানতকারী গ্রাহকদের টাকা পাশ বইয়ে উত্তোলন এবং স্লিপ দিয়ে গ্রহন করে। পরে সেই টাকা জমা না দিয়ে আতœসাত করেছে। এই জন্য অবৈধভাবে লাভবান হতে জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ জমা না করে আতœসাত করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে দুই কর্মকর্তা।
দুর্নীতির অভিযোগে  অপর ৪৭ মামলার প্রত্যেকটির বাদী  সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী। এছাড়াও প্রত্যেকটি মামলায় প্রধান আসামী শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসান। তদন্তনাধীন অপর ৪৬ মামলার আসামীরা হলো- কর্মকর্তা রতন প্রভা হালদার ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম, কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, রতন প্রভা হালদার, কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান, ইব্রাহিম খলিল, ওমর ফারুক, কামরুন্নাহার, মমতাজ বেগম  ও রিপন মিয়া। ৪৭ মামলার মধ্যে ৩০ মামলায় সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসানসহ ১০ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ভুয়া সদস্যদের নামে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৩ টাকা ভুয়া ঋন মঞ্জুর ও বিতরন দেখিয়ে উত্তোলন করে পরস্পর যোগসাজসে অর্থসাতœসাত করা অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অপর ১৭ মামলায় সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমানতকারীদের ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৫ টাকা আতœসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।