গ্রামীন ব্যাংকের দুর্নীতির এক আরো এক মামলার চার্জশীট জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ গ্রামীন ব্যাংকের রায়পাশা শাখা থেকে সদস্যদের নামে ঋন উত্তোলনের পর আতœসাতে দুদকের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশীট) জমা দেয়া হয়েছে। ওই ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকসহ তিন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হয়। গতকাল বুধবার কোতয়ালী মডেল থানা ও আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন দুদকের উপ সহকারী পরিচালক মো. নাজিমউদ্দিন। অভিযুক্তরা হলো- শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসান, দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী রতন প্রভা হালদার ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান। পরস্পর যোগ সাজসে তারা ব্যাংকের সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ টাকা ঋন উত্তোলন করে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৫ টাকা জমা দেয়। বাকী ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৪২ টাকা আতœসাত করেছে। অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা পলাতক থাকায় তাদেন মালামাল ক্রোক ও গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারীর সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী।
ওই ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ টাকা আতœসাত করার অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ৪৭ মামলা করে। প্রত্যেকটি মামলায় প্রধান আসামী শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসান। এছাড়াও কর্মকর্তা রতন প্রভা হালদার ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম, কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, রতন প্রভা হালদার, কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান, ইব্রাহিম খলিল, ওমর ফারুক, কামরুন্নাহার, মমতাজ বেগম ও রিপন মিয়া পৃথক মামলার আসামী। ৪৭ মামলার মধ্যে ৩০ মামলায় সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসানসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া সদস্যদের নামে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৩ টাকা ভুয়া ঋন মঞ্জুর ও বিতরন দেখিয়ে উত্তোলন করে পরস্পর যোগসাজসে অর্থসাত্মসাত করা অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অপর ১৭ মামলায় সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমানতকারীদের জমা করা ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৫ টাকা আতœসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে ২০১১ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত রায়পাশা শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ওই দুর্নীতি করে।