গ্যাসটারবাইন এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের মাছের ঘের ও জমি দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের মাছের ঘের ও জমি দখল করেছে স্থানীয় ভুমি দস্যুরা। গতকাল বুধবার নগরীর রূপাতলী গ্যাসটারবাইন এলাকায় সকাল থেকে দিনভর পিলার ও টিনের বেড়া দিয়ে দখল কার্যক্রম চালায় তারা। এ নিয়ে অপর দখলদার গ্রুপের সাথে তাদের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং দীর্ঘ বছর যাবত অবৈধ ভাবে ঘের দখল দিয়ে রাখা দক্ষিণ রূপাতলী এলাকার মজিবর রহমান জানান, গত ৩০ বছর যাবত তার বাবা এবং দাদা গ্যাসটারবাইন সড়কে সওজ’র ২৫ শতাংশ জমির একটি ঘেরে মাছ চাষ করে আসছেন। সর্বশেষে তিনি মজিবর রহমান ও ইমরান ঐ ঘেরটি বৈধ ভাবে লিজ পেতে সড়ক ও জনপথ বিভাগে আবেদন করে। ২০১৪ সালে বিভিন্ন সময় ওই ঘেরটি লিজ পেতে আবেদন করলেও মন্ত্রনালয় থেকে এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেননি।
এদিকে ঐ ঘের এবং আশপাশে থানা সওজ’র জমি ও গাছ-পালা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে একই এলাকার সাবেক আ’লীগ নেতা মৃত মোহাম্মদ আলী খানের ছেলে আলী রেজা খান, ওয়ার্ড আ’লীগের সাবেক সম্পাদক সবুজ খান ও শহীদ খান সহ অন্যান্যরা।
বৈধ ভাবে লিজ পেতে আগ্রহি মজিবর রহমান জানান, দখলবাজরা বেশ কয়েকদিন যাবত তার লাখ লাখ টাকার মাছ চাষ করা ঘেরটি দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে দুই বার তিনি কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় দখল সন্ত্রাসে বাধা প্রদান করেছেন। কিন্তু সর্বশেষ গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে দখলদার আলী রেজা খান, তার চাচা শহীদ খান ও সবুজ খানের নেতৃত্বে ভূমি দস্যু খ্যাত দখলবাজ সোহাগ খান, শাহ আলম খান, কালা খান, আফজাল খান ও রিপন আকন সহ অর্ধশত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে পূনরায় দখল কার্যক্রম চালায়। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলদারদের বাধা প্রদান করেন। কিন্তু পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সড়ক ও জনপদের জমিতে সিমানা নির্ধারনের পিলার পুতে টিনের বেড়া দিয়ে দখলে নেয়। এ সময় বিষয়টি নিয়ে পূর্বের ও বর্তমান দখলদারদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও একটি সময় নির্বিকার হয়ে ফিরে আসতে হয় প্রথম পক্ষের দখলদার মজিবর ও ইমরানরা। তাদের অভিযোগ আলী রেজা ও সবুজ খান সরকারী জমি দখলের পরে ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রির পায়তারা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহীদ বলেন, ঐ ঘের এবং আস পাশের জমি ও গাছপালা লিজ চেয়ে মজিবর রহমান নামের এজন বেশ কয়েকটি আবেদন করেছেন। তার আবেদনপত্রটি ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে লিজ অনুমতি দেয়া হয়তি। তবে শুনেছি মজিবর রহমান নামের ঐ ব্যক্তি এবং তার বাবা, দাদারা ওই ঘেরটিতে মাছ চাশ করে আসছে। তবে দখল হওয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন জানান, জমিটি সওজ’র কিন্তু মজিবর নামের ব্যক্তি অবৈধ ভাবে দখল দিয়ে দীর্ঘ বছর মাছ চাশ করে আসছে। তবে তারা লিজ পেতে আবেদন করেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।