গৌরনদীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ

গৌরনদী  প্রতিবেদক॥ গৌরনদীতে টানা কয়েক সপ্তাহ যাবত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহ যাবত এ সমস্যা আরোও বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র তাপাদাহের সময় চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে ফুঁসে উঠেছে গৌরনদী,আগৈলঝাড়া,উজিরপুর,বাবুগঞ্জ এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। এ সমস্যা দ্রুত লাঘব না হলে ভয়াল রূপ নিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
বরিশাল পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর গৌরনদী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. হেমায়েত হোসেন বিশ্বাষ জানান, ৩৩ কেভি ফিডারের আওতায় অত্র বিদ্যুৎ জোনের গৌরনদী,আগৈলঝাড়া,উজিরপুর,বাবুগঞ্জ এলাকার প্রায় ৭০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধায় পিক ডিমান্ডের সময় এ অঞ্চলের জন্য ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অপরদিকে দিনের বেলায় ১৪ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট । দৈনিক গড়ে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত পাচ্ছেন এ অঞ্চলের গ্রাহকরা। এ ছাড়া গত বছর থেকে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকার সহয়তায় এ অঞ্চলে নুতন ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ, পূরাতন বিদ্যুৎ লাইনের মেরামত ও সংস্কার কাজ চলছে। পূরাতন খুঁটি অপসারন করে নুতন খুঁটি বসানো ও তারের সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় বিদ্যুত লাইন বন্ধ করে সংস্কার কাজ করতে হচ্ছে। গত ১৫ দিন যাবত সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও তীব্র গরমের কারণে গত কয়েকদিন আগে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার ৪ টি স্কুলের প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
এ অঞ্চলে বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি থাকা সত্যেও বিদ্যুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেনা কেউ। সমস্যা লাঘবের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় গ্রীড থেকে এ অঞ্চলের জন্য আরো অতিরিক্ত ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুত বরাদ্দ দেয়া হলে এ সমস্যা লাঘব হতে পারে । অন্যথায় গ্রাহকদের ভোগান্তি  আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা।