গৌরনদীতে পৌর মেয়রের ক্যাডারদের তান্ডব

গৌরনদী প্রতিবেদক॥ ঠিকাদারী কাজ নিয়ে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র অনুসারীরা মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, ডিগ্রি কলেজ, মসজিদ, মর্ডান ক্লাব, তিনটি বাস কাউন্টারসহ দশটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনায় থানার ওসি ও ব্যবসায়ীসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ দু’রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আহত সূত্রে জানা গেছে, মাহিলাড়া ভায়া সরিকল এলাকার একটি সড়কের ঠিকাদারী কাজের বিরোধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে পৌর মেয়রের বড়ভাই আকবর হোসেন ফারুকের সাথে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর বাগ্বিতন্ডা হয়। আকবর হোসেন ফারুক অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান পিকলু তাকে মারধর করেন। মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ফারুকের অভিযোগ প্রত্যাখান করে জানান, মঙ্গলবার দুপুর বারোটার দিকে পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হারিছুর রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন দলের প্রায় দু’শতাধিক ক্যাডাররা সশস্ত্র অবস্থায় মাহিলাড়া বাজারে একটি ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ, মসজিদ, মর্ডান ক্লাবসহ দশটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। ঘন্টাব্যাপী হামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জলিল রাঢ়ী, নাসির উদ্দিন, দিলীপ মন্ডলসহ কমপক্ষে ১২জন আহত হয়। হামলাকারীরা ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালিয়ে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে তার (পিকলুর) সমর্থকদের তিনটি বাস কাউন্টারে হামলা চালিয়েও ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এসব ঘটনায় গৌরনদী থানার সহকারী পরিদর্শক (এস , আই) মজিবুর রহমান, কনষ্টবল আনছারুল হক, ব্যবসায়ী জলিল রারি (৪০)অশোক ম-ল (৩৫), কৃঞ্চ কান্ত সরকার(২২), মনির হোসেন (৩৪), ইখতেয়ার হোসেন (৪৫), সাগর আহম্মেদ(৪২)সহ ২০ জন আহত হন। দুই পুলিশসহ ৮ জানতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাহিলাড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে কিন্তু ব্যবসায়ীরা কোন অপরাধ করেনি। পৌর মেয়রের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের উপর তা-ব চালানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ীদের উপর হামলার প্রতিবাদে অনিদৃষ্টকালের জন্য ব্যবসায়ী ধর্মঘট আহবান করা হয়েছে।
খবর পেয়ে দুপুর দুইটার দিকে জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারি গৌরনদী কলেজের বিজিবির স্থায়ী ক্যাম্পের কমান্ডার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসলে উত্তেজিত জনতা হামলাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। গৌরনদী থানার ওসি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে তিনিসহ পুলিশ কনস্টবল মুজিবুল হক ও আনসারুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ দু’রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হারিছুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার বড় ভাই ঠিকাদার ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা আকবর হোসেন ফারুককে , মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শারিরিক ভাবে লাঞ্ছিত করায় নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে। এরর সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।