গৌরনদীতে দুঃস্থদের মাঝে পচা চাল বিতরন

গৌরনদী প্রতিবেদক॥ গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন  ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের   ভিজিএফ কর্মসূচীর অধীনে অসহায় দুঃস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরনের জন্য খাবার অযোগ্য পচা চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার চাল বিতরনকালে চাল হওয়ায় সকল ইউনিয়নে  ও পৌর এলাকাল চাল বিতরন বন্ধ করে দেয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে সুবিধাভোগী, জনপ্রতিনিধি ও সংশি¬ষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন  ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের   ভিজিএফ কর্মসূচীর অধীনে অসহায় দুঃস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরনের জন্য ১শত ৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প কার্যালয়ের একটি সূত্র জানান, গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে ২ হাজার দুঃস্ত পরিবারের জন্য ২০ টন, বার্থীর ১৮৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৮ টন, চাঁদশীর  ৯৫৮ পরিবারের জন্য সাড়ে ৯টন, মাহিলাড়ার ১১৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১১টন, বাটাজোরের ১৭৪০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৭ টন, নলচিড়ার ১৮৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৮ টন ও সরিকলের ১৮৫০ পরিবারের জন্য সাড়ে ১৮টন ও গৌরনদী পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডের ৪৬০০ পরিবারের জন্য ৪৬ টনসহ মোট ১শত ৬০ টন ভিজি এফ এর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা জানান,  এবারে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে অসহায় দুঃস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরনের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচীর অধীনে যে চাল দেয়া হয়েছে তা খাবার অযোগ্য,  নষ্ট ও দূগন্ধযুক্ত বিধায় সে চাল গ্রহন করা হয়নি। গৌরনদী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. হরিছুর রহমান জানান, পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় সাড়ে ৪৬ টন চাল বিতরনের জন্য গুদাম থেকে গ্রহন করা হয়। গতকাল বিতরনকালে পচা, খাবার অযোগ্য ও দূগন্ধযুক্ত হওয়ায় চাল বিতরন স্থগিত করা হয়েছে।
কসবা গ্রামের মনির মুন্সি (৪৫) লাখেরাজ কসবা গ্রামের তারামন বিবি (৫৫) বানীয়া শুরী গ্রামের মোসলেম াালী (৩৮) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সব সময় মোগো লাইগ্যা পচা চাল চাল দেয় এর কোন বিচার অয় না। সরেজমিনে গিয়ে (গতকাল বুধবার) গৌরনদী পৌরসভার পৌর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, গৌরনদী পৌর সভার সামনে সহস্রাধিক দুঃস্ত লোক চাল নেয়ার জন্য হাজির হয়েছে। তারা পচা চাল গ্রহনে অসম্মতি জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পরেন।
এ প্রসঙ্গে গৌরনদী খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এল এস ডি ) আবদুস সালামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিন্মমানের চাল সরবারহ করার কথা স্বীকার করে বলেন, ২০১৩ সালে জুন মাসে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় মিলার গৌরনদী উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. ফরহাদ মুন্সী অধিক লাভের আশায় তৎকালীন গুদাম কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে চাল গুদামজাত করেন। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী পচা চাল বিতরনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। চাল পরিবর্তন করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।