গৌরনদীতে তিন নারীকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ গৌরনদীতে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মা-মেয়ে সহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত আড়াইটার দিকে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত প্রতিপক্ষের খোকন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পরকিয়া প্রেমের সূত্র ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করেছে স্থানীয় সূত্র।
এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত মা-মেয়েকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- আধুনা গ্রামের হারুন অর রশিদ এর স্ত্রী রানী বেগম (৪২), তার দুই মেয়ে লাইজু আক্তার (২৬) ও রিপা আক্তার (২২)।
হাসপাতালে থাকা আহতদের প্রতিবেশি নাসির উদ্দিন আহতদের বরাত দিয়ে জানান, গত ৭ বছর পূর্বে সরিকল গ্রামের নজির আহম্মেদ এর ছেলে নূরুল করিম এর সাথে বিয়ে হয় লাইজু আক্তারের। বিয়ের ১৭ দিনের মাথায় তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তবে পরবর্তীতে নূরুল করিম এবং তার পরিবারের নানা মুখি হুমকি এবং ভয়ভীতির কারনে লাইজুকে পূনরায় নূরুল করিমের সংসারে প্রেরণ করা হয়। তবে লাইজু শ্বশুর বাড়িতে থাকা কালীন প্রতিনিয়ত কারনে অকারনে নির্যাতন সহ্য করতে হয় লাইজুকে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহ পূর্বে নূরুল ইসলামকে পূনরায় খোলা তালাক দেয় লাইজু। এ কারনে ক্ষিপ্ত হয় নূরুল করিম ও তার পরিবারের লোকেরা। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে নূরুল করিম এর নেতৃত্বে নূর ইসলাম, রিমন চোদ্দার, লিটন ওরফে চোরা লিটন এবং খোকন ওরফে কানা খাকন সহ আজ্ঞাত আরো ৫/৬ জন মিলে লাইজু’র ঘরে আমলা চালায়। এসময় লাইজুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এতে ব্যর্থ হয়ে ঘরে থাকা লাইজু, তার বোন রিপা আক্তার এবং মা রানী বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। তাদের ডাক চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গৌরনদীর আসকাঠি উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতী ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, লাইজু’র সাথে স্থানীয় এক যুবকের পরকিয়া প্রেম চলে আসছিলো। নিয়ে তাদের সংসারে বিরোধ চলে আসছিলো। যে কারনে লাইজু তার স্বামীকে দ্বিতীয় দফায় তালা দিয়ে পরকিয়া প্রেমিককে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। এ কারনেই তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
তবে হামলার ঘটনায় লাইজু’র চাচা পিন্টু প্যাদা গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত খোকন ওরফে কানা খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে গৌরনদী থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।