গৌরনদীতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গৌরনদীতে এক গৃহবধু যৌতুকের বলি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে নির্যাতনের পর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। নিহত গৃহবধু হ্যাপী দাস (২০) গৌরনদী উপজেলার সমর সিং গ্রামের সুমদ দাসের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার শেবাচিমের মর্গে নিহত গৃহবধুর মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার আজাহার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে হ্যাপী দাসকে বিষপান করা অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবার বাড়ির স্বজনরা জানায়, আড়াই বছর পূর্বে সুমন দাসের সাথে বিয়ে হয় হ্যাপীর। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় তাদের সংসারে একটি সন্তান আসে। তবে সেই সন্তানটি জন্মের প্রায় এক বছরের মাথায় পানিতে ডুবে মারা যায়।
তারা আরো জানান, প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে হ্যাপী তার স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়িতে থাকত। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে হ্যাপীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় তার স্বামী সুদন দাস ও শ্বশুড়-শাশুড়ীরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে দাবীকৃত যৌতুকের টাকা না দেয়ায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তার উপরে অমানষিক নির্যাতন করে। এক পর্যায় তার হাত-পা বেধে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করে।
অবস্থা বেগতিক দেখে রাত ১টার দিকে স্বামী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হ্যাপীকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করে দেয়।
গৌরনদী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা তাদের জানা নেই। এমনিক থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
তবে নিহতের ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন নিশ্চিত করেন।