গৌরনদীতে আ’লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে দুই যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গৌরনদীতে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে আ’লীগ নেতার ছেলে ও মাহিলারা ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। গতকাল রোববার রাতে এই ঘটনার সময় আরো একজনকে কুপিয়ে জখম ও অপরজনকে মারধর করা হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছে গৌরনদী উপজেলা আ’লীগের নেতা কালিয়া দমন গুহের ছেলে সলিল গুহ পিন্টু (৩৩)। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছে। সে গৌরনদী উপজেলা যুবলীগ নেতা।
তবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত বন্ধু মাসুদকে শেবাচিম হাসপাতালে ও মারধরের শিকার শিপলুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পিন্টুর ভাই মাহিলারা ইউপির চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানিয়েছে, গৌরনদী পৌর মেয়র হারিচুর রহমান হারিচের নেতৃত্বে দেলোয়ার ও জিয়াসহ ৫/৭ সন্ত্রাসী তার ভাইয়ের উপর হামলা করে। তারা এলোপাথারিভাবে ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসা বন্ধু মাসুদকেও কুপিয়েছে। তবে শিপলুকে বেধরকভাবে মারধর করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ কর্মি মিঠু জানায়, সন্ধ্যায় বাটাজোর এলাকায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে মেয়র হারিচ গ্রুপের সাথে চেয়ারম্যান পিকলু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র হারিচ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করে। সেখান থেকে পিন্টু বের হয়ে আশুকাঠি হাসপাতালের সামনে চায়ের দোকানে বসে। আকস্মিক মেয়র হারিচসহ ৭/৮ জন সেখানে পিন্টুর উপর হামলা করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারিভাবে তাকে কুপিয়ে জখম করেছে।
শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক রমিজ আহম্মেদ জানান, পিন্টুর মাথাসহ শরীরের ২০ স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছে। এছাড়াও দুই হাতের হাড় কেটে গেছে। তার অবস্থা আশংকাজনক জানিয়ে চিকিৎসক বলেন, দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হবে।
এদিকে এই ঘটনার পর শেবাচিম হাসপাতালে ছুটে যান কেন্দ্রীয় যুবলীগ ও মহানগর আ’লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি পরিবারকে সান্তনা দিয়ে পিন্টুর সু-চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করে।
গৌরনদী থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পিন্টু গুহকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা বলে ওসি ধারনা করছেন।
তিনি অরো জানান, ঘটনার পর দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মো. হারিছুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
গত ১৭ মার্চ ঠিকাদারী কাজের বিরোধকে কেন্দ্র করে মাহিলাড়া ইউনিয়নের পরিষদে পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে হামলা ও ভাংচুর হয়। ওই ঘটনার পর থেকে পৌর মেয়র ও মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধ হয়। এর জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।