গোধুলী বেলার প্রার্থনা রেখে ছুটেছে সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গোধুলি বেলায়, সবাই যখন আযানের ধ্বনি শুনে নামাজের ও সান্ধ্য প্রদীপ ধুপ ধুনো দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। সেই সময়ে আগুন পুড়িয়ে ছাই করতে শুরু করে। প্রার্থনা করা আর হয়নি। কেউ ছুটেছে জীবন বাঁচাতে কেউ ছুটেছে আগুন নেভাতে, কেউ ছুটেছে রক্ষা করতে।
প্রত্যক্ষদর্শী ভাটিখানার বাসিন্দা ও উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী ছাত্রলীগ নেতা মো. আহাম্মদ হোসেন রুবেল জানান, মাগরিবের আযান শুরুর কয়েক সেকেন্ড পূর্বে। হঠাৎ দেখতে পাই বিশাল এলাকা জুড়ে হলদে লাল হয়ে গেছে। কালো ধোয়ায় আকাশ ছেয়ে অন্ধকার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আকস্মিক ওই পরিস্থিতিতে সকলে একটু থমকে যায়। মুসুল্লী মসজিদে গিয়ে নামাজে যায়নি, জ্বলেনি সন্ধ্যা প্রদীপ। সবাই ছুটেছে যা হাতের কাছে পেয়েছে নিয়ে ছুটে গিয়েছে বারেক মিয়ার ভাড়াটিয়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে। এমনভাবে আগুন জ্বলে তা আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি তিনিসহ এলাকাবাসী। সকলে ভয় পেলেও, মানুষ ও সম্পদ রক্ষার তাগিদ সেই ভয়কে হারিয়ে দিয়েছে। সবাই আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিল। শুধু এলাকাবাসী শিশু, নারী পুরুষ নয়, পথচারীরাও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেছে। কেউ পানি নিয়ে, কেউ বালি, মাঠিসহ ভেজা যা পেয়েছে তাই নিক্ষেপ করেছে।
যেভাবে ঘটলো অগ্নিকান্ড
অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত সম্পর্কে এক বাসিন্দা তাকে জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগে শট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন ধরে ক্যাবলে। সেই ক্যাবল মিটার থেকে আগুন নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাশে রাখা গ্যাসের চুলার প্লাষ্টিকের পাইপের উপর। সেই পাইপ পুড়ে গ্যাস বের হওয়ার সাথে সাথে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যে মালামাল রক্ষা করতে গেলে নিজেই দ্বগ্ধ হওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তো বাসিন্দারা। তাই সকলে নিজের জীবন বাঁচাতে বেরিয়ে এসে আতংকিত ছিল। আতংক কাটিয়ে নেমে পড়েছে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য।
পরিচিত পরিবেশও অন্যরকম,ভয় ধরিয়েছে
বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আগুনে আশে-পাশের এলাকা আলোকিত করেছে। কিন্তু আগুনের আলোতে পরিচিত এলাকাও কেমন যেন অপরিচিত হয়ে উঠেছে। ঝলসিত মানুষ, আর পরিবেশের অবয়ব ফুটে উঠার সাথে চারপাশের গগন বিদারী চিৎকার চেচামেচি, মাকে খুজসে সন্তান, সন্তান খুজছে মাকে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভয়ংকর পরিবেশ নিয়ে এসেছে। কয়েক ঘন্টার ভাটিখানার পুরানবাকলা এলাকার পরিচিত পরিবেশ যেন অন্যরকম ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলো।