গৃহবধূর নাক থেকে বের হচ্ছে বড় বড় পোকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের মুলাদীর নাজিরপুর গ্রামের গৃহবধূ হনুফা বেগমের (৪০) মাথা ব্যথা ও চোখ থেকে অনবরত পানি পড়া শুরু হয়। এ জন্য মাঝে মধ্যে মাথা ব্যথার ওষুধ খেয়ে তা নিবারনের চেষ্টা চালান। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারী নাক থেকে রক্ত বের হয়। এতে করে মাথা ব্যথাও বেড়ে যায়। হনুফাকে গৌরনদীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দেন। ২৩ ফেব্রুয়ারী পুনরায় নাক থেকে রক্ত বের হতে থাকে। ওই দিন বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েল সিটি হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ খান আব্দুর রউফের অধীন ভর্তি করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারী হনুফার হাঁচি দেয়ার সাথে সাথে বড় আকারের ১৫ থেকে ২০টি জীবন্ত পোকা বের হয়ে আসে। একইভাবে গতকাল সোমবার আবারও হাঁচি দিলে ১০ থেকে ১২টি পোকা নাক থেকে বের হয়। এতে করে তার মাথা ব্যথা অনেকটা কমে আসে। ডা. রউফ জানিয়েছেন, এ রোগের নাম হচ্ছে ‘ম্যাগোট ইন দ্যা নোজ এন্ড প্যারানাজাল এয়ার সাইনাস’। নাক, গাল ও কপালের অভ্যন্তরের একাংশে ফাঁকা জায়গা থাকে। কোনভাবে কোন পোকা সেখানে প্রবেশ করতে পারলে খালি স্থানে বাসা বাধে। সেখানে ডিম পাড়ে। এরপর ওই ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। হনুফার অবস্থাও একই হয়েছে। যে কোন সময় হনুফার নাকের ভিতর থেকে ওই পোকাটি প্রবেশ করে তার খালি জায়গায় স্থান করে নিয়েছে। সেখানে ডিম দেয়ায় সেই ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়ে অগনিত পোকার আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পোকাটি বাসা বাঁধলেও হনুফা ও তার পরিবার বিষয়টি বুঝতে পারেনি। আর এ কারণে তার মাথা ব্যথা এবং চোখ দিয়ে অনবরত পানি বের হতো। চিকিৎসায় এ অবস্থা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন হনুফা। তবে দেরী হলে ওই পোকা মাথার ভিতর গিয়ে বাসা বাধতো। এতে করে তার মৃত্যুর ঝুকি ছিল। কিন্তু হনুফার অবস্থাটা এখনো সে পর্যায়ে যায়নি। এখন একটি সিটিস্ক্যান করে পোকার বাসাটি নির্নয় করার পর ওই বাসা ওষুধের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে। ডা. রউফ আরো জানান, গত ছয় মাস পূর্বে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের ছয় মাসের এক শিশুর কান থেকে এ ধরনের পোকা বের হয়েছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে। তবে দেশের পশ্চিমবঙ্গে যেখানে আমের চাষ বেশী হয়। সেখানে এ ধরনের রোগও বেশী হয়। কারণ আম বাগানে কর্মরতরা সারাদিন কাজ করে আম গাছের নীচে বিশ্রাম করে। এ সময় পোকা তার নাক অথবা কান দিয়ে প্রবেশ করে খালি স্থানগুলোতে বাসা বাধে। এ জন্য কোন গাছের নীচে বেশীক্ষণ না থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।