গৃহপরিচারিকা শিশু অবরুদ্ধ করে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১ বছর বয়সি সাবিনা আক্তার নামের কিশোরী গৃহরিচারিকা। অসুস্থ অবস্থায় আটকে রাখার চার দিন পর স্ট্যাম্পে সই দিয়ে তাকে উদ্ধারের পর শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছে মা রহিমা বেগম। গতকাল বুধবার নগরীর রূপাতলী গাউছিয়া সড়কের বাসা থেকে গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালে তার খোঁজ খবর নেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সাথে আজ এই ঘটনায় নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছেন সমিতির বিভাগীয় সভানেত্রী এ্যাড. মুনিরা বেগম।
জানাগেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার গ্রামের বাদশা খলিফার ১১ বছর বয়সি মেয়ে সাবিনা আক্তার। জন্মের কয়েক বছর পর তার পেটে টিউমার সদৃশ্য দেখা দেয়। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে অসহায় ভ্যান চালক বাবা বাদশা খলিফা মেয়ের অপারেশন করাতে পারেনি।
এমন পরিস্থিতিতে গত প্রায় এক বছর পূর্বে সাবিনার পেটের অপারেশন করিয়ে দেয়ার চুক্তিতে তাকে গৃহপরিচারিকার কাজ দেন নগরীর সাগরদী গাউছিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা মন্নান সিকদারের ছেলে মাসুম সিকদার। দু’মুঠো খায়িয়ে-পড়িয়ে গত এক বছর সাবিনাকে দিয়ে বিনা বেতনে গৃহের রান্না, কাপড় কাচা, থালা বাশন ধোয়ানো সহ সার্বিক কাজ করালেও তার পেটে অপারেশনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাসুম সিকদার এবং তার পরিবারের সদস্যরা। উল্টো মাসুম সিকদার এবং তার স্ত্রী শিমুল বেগম কারনে অকারনে কিশোরীর উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। সম্প্রতি সাবিনার উপরে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
সর্বশেষ গত ৫ দিন পূর্বে সানিবার কাজে একটু দেড়ি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের স্ত্রী শিশুল বেগম। এজন্য ঐদিন কিশোরী গৃহপরিচারিকার পিঠের বিভিন্ন স্থানে গরম খুনতির ছেকা দিয়ে ঝলসে দেয়। শুধু তাই নয় কাটা চামুচ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে এবং মাথায় পিটিয়ে জখম করার পাশাপাশি কুমড়ে কিশোরীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এতে কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার পরেও অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হয়নি তার মা বাবাকে।
সাবিনার মা রাহিমা বেগম জানান, লোকমুখে শুনতে পেরে গতকাল বুধবার তিনি তার মেয়েকে দেখার জন্য রূপাতলী গাউছিয়া সড়কে মাসুম সিকদারের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তখন মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলেও মাসুম সিকদার এবং তার স্ত্রী শিমুল বেগম দিতে চায়নি। এক পর্যায় পুনরায় ফিরিয়ে দেয়ার চুক্তিতে এবং স্ট্যাম্পে মায়ের কাছ থেকে সই রেখে কিশোরীকে যেতে দেয়। পরে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি করেন মা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সার্জারী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং খনতি দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অবস্থা এখন অনেকটা ভালো।
এদিকে খবর পেয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ছুটে যান জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় সভাপতি এ্যাড. মুনিরা বেগম এবং সহকারী মনিটরিং অফিসার মাসুক কামাল। এ্যাড. মুনিরা বেগম জানান, কিশোরীকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা মধ্য যুগের বর্বরতাকেও হার মানায়।
তিনি বলেন, সাবিনাকে নিরাপত্তা এবং আইনী সহায়তার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে নিয়ে রেখেছি। তার মা রাহিমা বেগম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে সম্মতি দিয়েছে। এজন্য আজ নির্যাতনের ঘটনায় কিশোরীর মা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হবে। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এই মামলাটি পরিচালনা করবে বলেও যানান তিনি।