গুনীজনদের সম্মাননা ও কৃতী শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা পেলো যুবলীগ নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রথমবারের মত গুনীজন সম্মাননা ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হলো নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আর এ ব্যতিক্রম সংবর্ধনার আয়োজন করেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক ও হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য শাহিন সিকদার। প্রথমবারের মত নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা, গুনীজন সম্মাননা এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে এ আয়োজন করেন তিনি। শুধু সংবর্ধনা আর ক্রেষ্ট প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি অনুষ্ঠানের। ছিলো নাচ ও গানের আয়োজনও। যা মুগ্ধ করে আগত অতিথিদের। শুধু তাই নয় এ ধরনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন আগত অতিথিরাও।
শাহিন সিকদারের সভাপতিত্বে বিকেলে হালিমা খাতুন স্কুল মাঠে আয়োজিত সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গুনীজনদের এ ধরনের একটি সম্মাননার আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। যারা গুনীজন তারা সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে অনেক শেখার আছে, জানার আছে। আজকে যে সব শিক্ষার্থীদের সম্মান দেখানো হচ্ছে তারাই ১৫ বছর পরে দেশের প্রধান কর্ম শক্তিতে রুপান্তরিত হবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রানিত হবে। নিঃসন্দেহে এই আয়োজন প্রশংসিত। তিনি বলেন, সমাজ এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমাজের মানুষের সাথে একটি মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন। মৌলিক, মানবিক সম্পর্কের জন্যই আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। সেই যুদ্ধে যারা অবদান রেখেছেন তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মাননা প্রদানের জন্য এমন একটি আয়োজনের জন্য শাহিন সিকদারকে ধন্যবাদ জানান বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর জিয়াউল হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেমিস্ট এ্যান্ড ড্রাগিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল, সাউথ এ্যাপোলো ডায়াগনোস্টিক কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শহিদুল আলম, ডেন্টাল সার্জন ও সমাজসেবক ডাঃ এসএম জাকির হোসেন, চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডাঃ আনোয়ার হোসেন। এছাড়া স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্কুল শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সম্মাননা শেষে শুরু হয় মনমাতানো সঙ্গীতানুষ্ঠান। গানে গানে অনুষ্ঠানের সফলতাকে আরেক ধাপ এগিয়ে দেন বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পী আবিদুর রহমান জুয়েল। দেড়শ মুক্তিযোদ্ধা ও গুনীজনকে দেয়া হয় বিশেষ সম্মাননা ক্রেষ্ট। আর দেড়শ কৃতী শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় সংবর্ধনা। কেবলমাত্র ১৬ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা ও গুনীজনদের সম্মাননার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে সাং®কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথি ও আগতরা। অনুষ্ঠানে মোট ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে একজন বীর প্রতীকও রয়েছেন। এছাড়া সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির দেড়শ কৃতী শিক্ষার্থীসহ মোট তিনশ জনকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন সাংবাদিককে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রধান করা হয়।