গাছ ও বৈদ্যুতিক খাম্বায় প্রেমিকা নির্যাতনে প্রেমিকের মা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীতে প্রেমিকা ষোড়শীকে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুটির সাথে বেধেঁ নির্যাতন করার অভিযোগে পুলিশ প্রেমিকের মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার গ্রেপ্তারকৃত হোসনেয়ারা বেগম (৪০) নগরীর দক্ষিন রুপাতলীর ইউনুস কন্ট্রাকটরের বাড়ীর আলতাফউদ্দিন শানু হাওলাদারের স্ত্রী। সোমবার রাত থেকে ১০ ঘন্টা প্রেমিকা ষোড়শী বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউপির কাকুরিয়া গ্রামের চুন্নু আকনের কন্যা রিপা আক্তারকে প্রেমিক শাহাদাতউদ্দিন মিথুন, তার বাবা আলতাফউদ্দিন শানু হাওলাদার, মা হোসনেয়ারা বেগম প্রতিবেশি মাসুম খা ও রফিক আকন নির্যাতন করে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওই তরুনীকে মুক্ত করেন। এর আগেই নির্যাতনকারী প্রেমিক ও তার বাবা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় তরুনী নিজে বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শ্লীতহানি ও শ্লীতাহনিতে সহায়তা করা এবং আটকে রাখার অভিযোগে করা মামলার আসামী হিসেবে মা হোসনেয়ারা বেগমকে আটক করা হয়। তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, তরুনী তার অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রিপা আক্তার জানায়, মিথুনের খালার বাসায় তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলো। এক বছর পূর্বে তার সাথে প্রেম হয়। প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষন করে। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের চাকুরী ছেড়ে ৪ মাস গাজীপুরের একটি সোয়টার কারখানায় চাকুরী নেয়। সেখানে গিয়ে তাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তখন  মিঠুন নানা ছলছাতুরী করে রিপাকে তার বন্ধুদের হাতে তুলে দেয়। গত ২ জুন জয়দেবপুর থানা পুলিশ রিপাকে উদ্ধার এবং মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। ওই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জামিনে বের হয় সে। রিপাকে তার মা সেইভ হোম থেকে নিয়ে অসে। গত সোমবার সকালে সমঝোতার কথা বলে মিঠুনের বাবা শানু হাওলাদার রিপার মায়ের মুঠো ফোনে রিং দিয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে আসে।
রিপা জানান, ওইদিন রাত ৯টায় তাদের ঘরে পৌঁছামাত্র কোন কথা না বলেই শানু হাওলাদার মামলা তুলে নেবে কিনা জানতে চায়। পুরো বিষয়টির সুরহা ছাড়া মামলা তুলে নিতে অপরাগত জানালে তাকে রাত ১০টার দিকে দুটি গাছের সাথে রশি দিয়ে দুই হাত এবং শিকল দিয়ে কোমড় বেঁেধ রাখে বৈদ্যুতিক খাম্বার সাথে। এ সময় নানা কথার প্রেক্ষিতে তাকে দফায় দফায় নির্যাতন করে তারা।
এদিকে রিপার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা কৌতুহল নিয়ে রাত ভর তার করুন পরিনতি দেখলেও কেউ তাকে সাহায্য কিংবা বাঁধন খুলে দিতে এগিয়ে আসেনি। ওই বাড়ির মধ্যে এবং আশপাশে অন্তত ১৫টি পরিবার বসবাস করে।
নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, লোকমুখে খবর পেয়ে সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাঁধা অবস্থা থেকে মেয়েটিকে মুক্ত করেন। তাকে সাহায্য করতে পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি। রিপাকে তিনি নিজ দায়িত্বে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছেন বলে জানান।