গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত

রুবেল খান॥ কোথাও নেই বৃষ্টির আভাস। সে সাথে ওঠা নামা করছে রোদের তাপ মাত্রা। দিনভর অসহ্য গরমে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন জাপন। দৈনন্দিন কার্যক্রমে অলসতা আর রাজপথে মানুষের পদচারনা কমে গেছে। তবে একটু সস্তি পেতে গাছ তলায় কিংবা নদীর ধারে বেড়েছে মানুষের পদচারনা।
এদিকে প্রচন্ড গরমের মধ্যে পথচারীদের একটু সস্তি দিতে ফুটপাতে বসেছে ভ্রাম্যমান সরবত বিক্রেতারা। গরমে অস্বাস্থ্যকর এসব সরবত পানে বাড়ছে রোগ বালাই। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন বন্ধে দেখা যাচ্ছে না কারো সু-দৃষ্টি।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, বাংলা বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই রোদের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। প্রথম দিকে মাঝে মধ্যে বৃষ্টিও হয়েছে। তবে হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন যাবত বৃষ্টির কোন আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সাথে সূর্যের তাপমাত্রা ওঠা-নামা করছে। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভ্যাপসা গরমের।
আবধাওয়া অধিদপ্তর’র বরিশাল কার্যালয়ের পর্যবেক্ষকরা জানান, গতকালও রোদের তাপমাত্রা ছিলো অনেক। তাদের রেকর্ড অনুযায়ী সারাদিন রোদের সর্বচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আর সর্বনি¤œ ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রাত ৯টার দিকে সর্বচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনভর বাতাসের গতিবেগ ছিলো প্রতি ঘন্টায় ১৪.২৭ কিলো মিটার। আর সন্ধ্যায় এর গতিবেগ ছিলো ১১.২৭ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অফিস সূত্র আরো জানায়, আজ শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আজকের সম্ভব্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা কম এবং সর্ব নি¤œ সম্ভব্য ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে তাপমাত্রা কম হওয়ায় আজ কিছুটা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া বিদরা। এছাড়া গ্রীস্মকালে সূর্যের তাপমাত্রা আরো বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতির কারন হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেই দায়ি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সূর্যের তাপের তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে রোদের খড়তাপ। এ কারনে সাধারন জন জীবনে চরম বিপর্যায় নেমে এসেছে। কর্মক্ষেত্র এবং পথে ঘাটে মানুষের চলাচল অনেকাংশে কমে যেতে দেখা গেছে। রাত এবং দিন প্রচন্ড গরমে নি¤œ এবং মধ্যবৃত্ত পরিবারের মানুষ গুলো ঘরেও থাকতে পারছেন না। তার মধ্যে আবার রয়েছে লোড শেডিং এর নামে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ এর লুকো চুরি।
সরেজমিনে দেখাগেছে, পচন্ড গরমে খেটে খাওয়া দিনমজুর এবং নিম্ববৃত্তরাই কর্মক্ষেত্রে বেশি অস্থিরতায় ভুগছেন। বিশেষ করে রিক্সা চালক এবং মাটি কাটা ও নির্মান শ্রমিকরা মাটি ফাটা রোদে খুব অল্পতেই ঘামিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক ভাবে কাজ করতে পারছেন না। শরীরে একটু সস্তি পেতে রিক্সা নিয়ে ঘুমে থাকছেন গাছের তলায়।
অপরদিকে রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষ এবং পথচারীদের সস্তি সস্তি দিতে নগরীর রাস্তার মোড়ে বা গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার সামনে হরেক রকম খাবারের পসরা নিয়ে বসেছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা বরফ দেয়া পানি, তরমুজ, ডাব এবং শরবত বিক্রি করছেন ঘুরে ফিরে। এসব খাবার খেয়ে কিছু সময়ের জন্য একটু সস্তি অনুভব করলেও আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে। কেননা এসব শীতল খাবার তৈরী এবং বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এসব খেয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়রীয়ার জীবানু ছাড়াচ্ছে মানুষের দেহে। এজন্য শিশু এবং বৃদ্ধ সহ বিভিন্ন বয়সের ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষের ভিড় বাড়ছে হাসপাতাল গুলোতে।
এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রদান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম. আর তালুকদার মুজিব বলেন, গরমে পানিবাহিত রোগ একটু বেশিই হয়ে থাকে। আর ডায়রীয়া একটি পানি বাহিত রোগী। পানির মাধ্যমে ডায়রিয়ার জীবানু মানুষের দেহে প্রবেশ করছে।
তিনি বলেন, গরমে পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি জীবানু মুক্ত পানি পান করতে হবে। তাছাড়া বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন ডা. এম.আর তালুকদার মুজিব। এসব মেনে চললে ডায়রিয়ার আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।