গরমে লোডশেডিংয়ে নাকাল নগরবাসী

রুবেল খান॥ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে সূর্যের তাপমাত্রা। প্রচন্ড খড়তাপ ও সেই সাথে চলছে বিদ্যুৎ এর লুকোচুরি। নগরীতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও লোডশেডিংয়ে কবলে নাকাল নগরবাসী। রোদের খড়তাপ ও বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজী এই দুয়ে মিলিয়ে জনজীবনে চলছে চরমন অস্থিরতা। রাস্তাঘাট এবং দৈনন্দিন কাজেও নেমে এসেছে ব্যাপক ধীর গতি। তবে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং এর বিষয়টি মানতে নারাজ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে গত কদিন যাবত হঠাৎ করেই রোদের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে সূর্যের তাপমাত্রা কয়েকগুন বেড়ে গেছে। সেই তুলোনায় গতকাল রোগের তাপমাত্রা একটু কম থকলেও পূর্বের দিন ছিলো আরো বেশি।
আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মতে গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত রোদের সর্বচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর পূর্বের দিন মঙ্গলবার ছিলো মৌসুমের সর্বচ্চ ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। তবে চলতে মাসে রোদের তাপমাত্রা আরো রেকর্ড পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর কারন হিসেবে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণাঞ্চলে রোদের তাপমাত্রা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে হালকা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রার অনেকটা পরিবর্তন হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রোদের তাপের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে লোড শেডিং। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভির রাত পর্যন্ত নগরীর প্রতিটি ফিডারেই চলছে বিদ্যুৎ এর লুকোচুরি খেলা। একবার বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং শুরু হলে তার শেষ হতে সময় লাগে প্রায় আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্টিবিউশন কোম্পানির বরিশাল নগরীর দুটি বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্রের বিভিন্ন ফিডারের গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, এমনেতেই গরমে অস্থির হয়ে পড়ছেন তারা। তার মধ্যে আবার যে পরিমানে বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং বাড়ছে তাতে করে স্বাভাবিক জীবন যাপন খুব কষ্টকর হচ্ছে। তারা বলেন, সকাল ঘুম ভাঙ্গার আগেই শুরু হয় লোড শেডিং। তা কখনো সকাল ৭টায় অথবা ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে। আবার বেলা ১২টার দিকে কমপক্ষে একঘন্টার জন্য একবার। দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে একবার, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে একবার এবং রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে একবার বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং দেয়া হচ্ছে। তার মধ্যে আবার রাতে ঘুমাতে গেলে সর্ব শেষ রাত সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা আবার কখনো কখনো রাত ৩টার পরেও বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং হচ্ছে। যে কারনে প্রচন্ড গরতে স্বাভাবিক ভাবে ঘরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না সাধারন মানুষকে। সকালে কিংবা রাতে যেকোন সময় একটু সস্থির বাতাসের আশায় ঘর ছেড়ে নেমে আসতে হচ্ছে রাস্তায়, নদীর ধারে অথবা গাছের ছায়ায়।
তবে বিদ্যুৎ এর লাগামহিন ভ্যালকিবাজির কারনে পরিবারের শিশু এবং বয়স্ক মানুষ গুলোকে পড়তে হচ্ছে বিপাকে। তাছাড়া চলমান এইচএসসি ও জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেনীর পরীক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় বিঘœ ঘটছে। কাজ করতে গিয়ে সাধারন রিক্সা চালক, দিনমজুর এবং কৃষকরাও হাপিয়ে উঠছেন। তবে পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির থেকেও প্রতন্ড তাপদাহের মধ্যে গ্রাম পর্যায়ে পল্লি বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং চরম পর্যায়ে পৌছেছে।
নগরীর রূপাতলী পাওয়ার হাউস সূত্রে জানাগেছে, নগরীতে বর্তমানে যে পরিমানে বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে, সে পরিমান বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তাই ঘন ঘন লোড শেডিং এর তেমন কোন কারন নেই বলেও দাবী করেন তারা।
তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির নগরীর দুটি বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের দাবী ভিন্ন। তারা জানান, দুটি ফিডারে সর্বমোট ৭০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছেন তারা। কিন্তু যান্ত্রীক গোলযোগের পাশাপাশি ট্রান্স ফর্মার অকার্যকর হয়ে পড়ায় কিছুটা ঝামেলা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দুটি বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্রের অধিনে মোট ৩৮৭টি ট্রান্স ফর্মার রয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ২৩৫ টিই ধারন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যে করনে দুর্ঘটনা এড়াবার পাশাপাশি যাত্রীকে গোলযোগের কারনে মাঝে মধ্যে লোড শেডিং দিতে হয়। তবে গ্রাহকরা যে ভাবে লোড শেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ততটা হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম পরিবর্তনকে জানান, তাদের আওতাধিন এলাকার জন্য চাহিদা অনুযায়ী ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের কেন্দ্রের অধীনস্ত ১৮০টি ট্রান্সফর্মারের মধ্যে ৫৫টিই ধারন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যে জন্য গ্রাহকদের বিদ্যুৎ পেতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চাহিদা অনুযায়ী তারা ৩৫ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ পেলেও যাত্রীক ত্রুটি ও দুর্ঘটনা এড়াতে মাঝে মধ্যে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং দিতে হচ্ছে। তবে অবৈধ ও চোরাই পন্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্যও কিছুটা বিদ্যুৎ এর চাহিদার পাশাপাশি লোড শেডিং দিতে হচ্ছে বলেও দাবী করেছেন কর্মকর্তারা।