গরমে দিশেহারা নগরবাসী

জুবায়ের হোসেন॥ গত ৪/৫ দিন ধরে বাড়তে থাকা অসহ্য তাপদাহে হাপিয়ে উঠেছে নগরবাসী। বিশেষ করে নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। দিনের বেলা প্রচন্ড সূর্য তাপ ও রাতে লোডশেডিংয়ে কারনে এখন দিশেহারা অবস্থা। আর বাড়তে থাকা গরমে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, হিটস্ট্রোক এর মত রোগ। এসব রোগ গরমের কারনে দূষিত পানি পান করা থেকেই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানায়, আরও বেশ কিছুদিন থাকতে পারে এই তাপদাহ। এমনকি তা বেড়ে যাওয়ারর সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বর্তমানে চলতে থাকা তাপদাহে এমনিতেই প্রান ওষ্ঠাগত, আরো বাড়লে সাধারন মানুষের প্রান বিপন্ন হয়ে যাবে। প্রচন্ড গরমে এখন দিনের বেলায় নগরীর পথঘাট একেবারেই শূন্য হয়ে যায়। তবে খেটে খাওয়া মানুষ পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে পথে নামে। অসহ্য গরমে তাদের কর্ম করতে গিয়ে জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। তবুও কাজের ফাঁকে অবসর মেললে নগরীর বিভিন্ন পার্কের গাছের ছায়ায় গিয়ে শান্তি খোজার চেষ্ঠা করে। এছাড়াও সব শ্রেণির মানুষ শীতল পরশ পেতে কীর্তনখোলা নদীর তীরের মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন এলাকায় ভীড় করে।
ত্রিশ গোডাউন নদীর পাশে বিশ্রাম নিতে আসা এক দিনমজুরের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তার আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। তাই যতই গরম হোক পেটের দায়ে কাজ করতেই হবে। তবে প্রচন্ড রোদের তাপে বেশিক্ষণ কাজ করার পর দিশেহারা হয়ে ওঠেন। তাই একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারও কাজে ফিরবেন বলেন ওই দিনমজুর। প্রচন্ড পানির পিপাসা পেলে রাস্তার পাশের শরবত কিনে পান করেন তার মত শ্রমজীবীরা। ভালমন্দ, স্বাস্থ্যকর- অস্বাস্থ্যকর বোঝার মানুসিকতা তাদের নেই পিপাসা মিটলেই স্বস্তি। তাই এসকল অস্বাস্থ্যকর পানিয় পান করেন তারা বলেও জানান। অন্যদিকে নগরীর ছোট বড় পুকুরে দিনভর মানুষের গোসল করার দৃশ্য এখন দেখা যায় দিনের প্রতিটি সময়ই। গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা অবস্থান করে পুকুরের পানিতে। তবে এমন তাপদাহের বিষয়ে আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মোঃ ইউসুফ জানান, স্বাভাবিকভাবে ঋতুর কারনেই তাপদাহ বেড়েছে। ২০, ২১, ২২, এবং ২৩ মে এই চারদিনই ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গতকাল শনিবার এর তাপমাত্রা ছিল ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের তথা শুক্রবার দিন ছিল ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ছিল ৩৬.৫ ডিগ্রি সেল সিয়াস। আগামী ২/৪ দিন তাপমাত্রা একই সকল থাকবে বা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আরও জানান, বায়ু প্রবাহের জন্য তাপমাত্রা কিছুটা সহনশীল আছে। যদি তা না থাকতো তবে তাপমাত্রা অসহনশীল মাত্রায় চলে যেত। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে কালবৈশাখীর সময় হওয়ায় জেলা উপজেলায় স্থানে স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। গরমে স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে সমস্যাও বাড়বে। তাপমাত্রা বেশি হলে রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর পানীয় পানের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে, অতিরিক্ত ঘেমে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে এবং প্রচন্ড তাপে হিটস্ট্রোক হতে পারে। তাই এই গরমে ঘর থেকে বেড় হলে ছাতা, সানগ্লাস ও সাদা পোষাক পরে বের হতে হবে। যথা সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। রাস্তার পাশের পানীয় পান না করে স্যালাইন পান করতে হবে। হিটস্ট্রোক এর লক্ষণ দেখা দিলে তাড়াতাড়ি আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়ায় নিয়ে যেতে হবে, তার শরীর হালকা ঠান্ডা পানি দিয়ে মুছে দিতে হবে এবং পানি পান করাতে হবে।