গভীর নি¤œ চাপে আতংকে উপকূলবাসী

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ অবশেষে মৌসুমী নি¤œচাপটি ঘণীভূত হয়ে গভীর নি¤œচাপে পরিনত হয়ে দক্ষিনাঞ্চল সহ উপকুলবাসীর জন্য নতুন আতংকের সৃষ্টি করল। দক্ষিনাঞ্চল সহ সমগ্র উপকূল জুড়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহায়া বিরাজ করছে। সাগর যথেষ্ঠ উত্তাল। গত কয়দিন ধরে বরিশালের পায়রা সমুদ্র বন্দরের ১০কিলোমিটার পূর্বে ২২.০ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.২ ডিগ্রীপূর্ব দ্রাঘিমাংশ অবস্থানকারী মৌসুমী নি¤œ চাপটি ঘণীভূত হয়ে গভীর নি¤œচাপে পরিনত হয়ে গতকাল দুপুর ১২টায় উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ২১ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৮ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। এটি গতকাল দুপুরে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণÑপূর্বে অবস্থান করছিল। তবে ঝড়টি তার অবস্থান দ্রুত পরিবর্তন করে সন্ধা ৬টায় পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ২১.৫ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৮ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ সড়ে আসে। পায়রা সহ দেশের সবকটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে । পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসা সহ পরবতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে থাকতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। অপরদিকে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সবকটি নদী বন্দকে পুনরায় ২নম্বর সতর্ক সংকেতের আওতায় অনা হয়েছে।
নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৬০কিলোমিটারের পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নি¤নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে’।
ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর থেকে বিকাল নাগাদ ঘন্টায় ৬০কিলোমিটার বেগে বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। সে সাথে বরিশাল সহ দেশের উপকূলভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। গভীর নি¤œচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নি¤œাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হবার আশংকার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
এক দিনেরর ব্যবধানে গতকাল থেকে দক্ষিনাঞ্চলের সবকটি রুটে অনধীক ৬৫ফুট দৈর্ঘের সবধরনের যাত্রীবাহী নৌযানের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে বরিশাল মহানগরী সহ সন্নিহিত এলাকার ওপর দিয়ে আধ ঘন্টা স্থায়ী এক ঝড়ে প্রায় ১৮মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ২০কিলোমিটারের মত। তবে আগামীকাল নাগাদ আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনের কথা জানিয়ে পারবর্তী দুদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাসের কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
গতকাল সকালের পূর্ববর্তী ২৪ঘন্টায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৯৩মিলিমিটার, ভোলাতে ৮৪মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ৬০ ও বরিশালে ৬৮মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশালে আরো ২০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছ।
এদিকে ভাটি মেঘনার প্রবল স্রোতে ভেঙে যাওয়া ভোলার ইলিশা ফেরি ঘাটটি গতকাল পর্যন্ত পূণর্বাসন সম্ভব না হওয়ায় ৪র্থ দিনের মত ভোলাÑলক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। ফলে চট্টগ্রামÑবরিশালÑখুলনা সরাসরি সড়ক পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। ভোলা সহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনও ক্রমশ তীব্র আকার ধারন করছে। মেঘনা, তেতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, কালাবদর, আগুনমুখা সহ দক্ষিনাঞ্চলের বেশীরভাগ নদ-নদী ক্রমশ ফুসছে। উজানের ঢলের সাথে সাগরের জোয়ারে এসব নদ-নদী ইতোমধ্যেই বিপদ সীমা ছুই ছুই করছে।
গত ২৬জুনের আকষ্মিক প্রবল বর্ষনের এক দফা আগাম আমন বীজতলা ও রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হবার পরে দ্বিতীয় দফার অতি বর্ষনেও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।