গণপূর্তের ওএসডি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর দখলে সরকারী বাসভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দেড় মাস পূর্বে ওএসডি হওয়া গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারী বাসভবন ছাড়েনি। যার কারনে নতুন প্রকৌশলী মো. ওসমান গনি আবাসিক হোটেল ও রেষ্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে বরিশাল গণপূর্ত ঠিকাদার কল্যান সমিতির ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন এখনো সরকারী বাস ভবনটি দখলে রেখেছে।
সূত্রমতে, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বরিশালে তার কর্মস্থলে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলে। গণপূর্ত ঠিকাদার কল্যান সমিতির কতিপয় নেতাদের সহযোগিতায় সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় জাকির হোসেন। এ নিয়ে দৈনিক আজকের পরিবর্তনে তার দুর্নীতির ফিরিস্থি তুলে ধরে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে যায় উপরস্থ কর্মকর্তাদের। এরপর পরই বহুল আলোচিত দুর্নীতিবাজ জাকির হোসেনকে ওএসডি করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এতেও তিনি অধদপ্তরে যোগদান না করে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ওএসডি আদেশ বাতিলের তৎপরতা চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার শেষ রক্ষা হয়নি। ১৫ আগস্ট অধিদপ্তর থেকে দেয়া স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঢাকায় যোগদান করেন। কিন্তু নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওসমান গনিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন ১৬ আগস্ট।
এদিকে স্যান্ড রিলিজ হয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিলেও দখল মুক্ত করে দেননি বরিশালে তার সরকারী বাস ভবনটি। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদার সমিতির ক্ষমতাসিন দলের কতিপয় ঠিকাদারের যোগ সাজসে এবং ক্ষমতা বলে জাকির হোসেন ভবনটির ভেতরে মালামাল রেখে তালা বদ্ধ করে রেখেছেন। মাঝে মধ্যে বরিশালে ফিরে সরকারী বাস ভবনে বহিরাগতদের নিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। এ নিয়ে সম্প্রতি আজকের পরিবর্তন সহ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এতেও কর্ণপাত হচ্ছে না দুর্নীতির গডফাদার জাকির হোসেনের। এমনকি নতুন প্রকৌশলী ভ্রাম্যমান অবস্থায় কখনো রেষ্ট হাউজ আবার কখনো আবাসীক হোটেলে রাত্রি যাপন করলেও বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে না উপরস্থ কর্মকর্তারাও।
এ বিষয়ে জানতে সরকারী বাস ভবন দখলে রাখা নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন’র মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তাছাড়া নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওসমান গনি মুঠো ফানে জানান, এখন জোর করে বাস ভবন আটকে রাখলে আমার কি করার থাকতে পারে। যেহেতু জাকির হোসেন আমার কলিগ, তাই তার সাথে বিরোধ করাও সাজে না। তবে বিষয়টি উপরস্থ কর্মকর্তারা জানেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।