গণতন্ত্র ও নেতাদের বক্তব্য

সাইদ মেমন ॥ দেশের সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের গণতন্ত্র কি অবস্থায় রয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে নয়, যারা দেশের গণতন্ত্র নিয়ে বক্তব্য দেয়। তাদের সেই বক্তব্য নিয়ে নিজের মনে উঠা প্রশ্ন, সাধারণের কথা নিয়ে এ লেখার উদ্দেশ্য। কাউকে আঘাত করা বা হেয় করার জন্য নয়, আমি যা না কিংবা করতেও পারব না, তা সভা সমাবেশে এসেও বলা উচিত নয়। কারণ আদর্শের বাণী নিয়ে বক্তৃতা দেয়া নেতার কোন কাজে কর্মী বা জনগণ খুঁজে পায় না। তাই দেশের জনগণের মাঝে এখন একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে “নেতা বা জনপ্রতিনিধিরা যা বলে তা করে না।”তাদের মুখের ভাষা ও কর্মকান্ড সম্পূর্ণ বিপরীত। দেশের মানুষের নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের কোন কথাই বিশ^াস করে না। কোন কিছুই করে দেয়ার ওয়াদা করলে তো এরা ধরে নেয়, কখনো তা হবে না।
সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকার কারণে সব সময় নেতাদের বক্তব্য শুনতে হয়। তাদের আদর্শিক বক্তব্য ও ওয়াদা তুলে ধরে সংবাদ করতে হয়। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমারও নেতাদের বক্তব্য শুনতে ইচ্ছা করেনা। তবুও করতে হয়। কারণ আমি বাধ্য। কেন বাধ্য সে বিষয়ে যাব না।
ক্ষমতাসীন মহাজোট প্রধান দল আওয়ামীলীগের নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের সকলের বক্তব্য থাকে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে তারা কি কি করেছেন। মহাজোট শাসনামলে দেশের মানুষ সর্বোচ্চ পর্যায় গণতন্ত্রের সুবিধা ভোগ করছে। দেশের মানুষের আয় বেড়েছে। উন্নয়নসহ সকল বিষয়ে সফলতা বয়ে এনেছেন।
দেশের বর্তমান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির নেতারা কখন যে কি বলে তা তারাই এবং জনগণই ভালো জানে।
জোট প্রধান বিএনপি দলীয় নেতাদের দাবি দেশে গণতন্ত্র সিকি ভাগ নেই। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে। গণতন্ত্র রক্ষায় নেতাদের শহীদ হওয়ার মত বক্তব্য যে কোন কর্মসূচীতে শোনা যায়। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কোন কর্মকান্ড বাস্তবে কখনো দেখিনি। দেখব বলেও সাধারণ মানুষ হিসেবে আশাও করি না। নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবী একটাই আপনারা যা তার বাইরে গিয়ে বক্তব্য দিবেন না। নিজে যে কর্ম করেন, তা বলা যাবে না। তাই কর্মসূচীর সংশ্লিষ্ট বক্তব্য দিবেন না।
এতে অন্তত নতুন প্রজন্ম এই ধারণা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবে যে “নেতা হতে মিথ্যা কথা বলতে হবে। জনপ্রতিনিধি হতে হলে ওয়াদা ভঙ্গ করতে হবে। মুখে মধুও অন্তরে বিষ রাখতে হবে। মানুষের সেবা করতে রাজনীতিতে এসেছি। জনপ্রতিনিধি হয়ে তাদের সেবা করবো।” এ ধরণের বক্তব্য দেয়া বন্ধ করুন।
নিজের স্বার্থ উদ্ধার, প্রচুর অবৈধভাবে অর্থ আয় করার জন্য আসছেন। সেই সত্য বলার সাহস তো কারোর নেই। তাই মিথ্য বলা থেকে বিরত থাকুন। নিজের স্বার্থ তো অনেক রক্ষা করেছেন। দেশের বিভাগের, জেলার, উপজেলার, ইউনিয়নের ও ওয়ার্ডে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত নেতা ও জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য না হয় “অভিনয়” বন্ধ রাখুন হে আমাদের মহান রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।
বর্তমানে চলছে নির্বাচনী মৌসুম। মানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবে ইউনিয়নে উৎসব থাকবে। কিন্তু সেই উৎসবে কোন আমেজ নেই।
প্রথমপর্বে বরিশালের ২৭৬ ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। ভোট ২২ মার্চ। তাই এখন চলছে দলের প্রার্থী মনোনয়ন। আ’লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।
বর্তমানে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা বিএনপির মধ্যে প্রার্থী নিয়ে তেমন বড় ধরনের যথাসময়ে পড়তে হয়নি।
কিন্তু আ’লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে। একেকটি ইউনিয়নে এত প্রার্থী মনোনয়ন দাবী করছে যে, প্রার্থী চূড়ান্তও করতে নেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।
কারণ একটাই। নেতারা দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কত কিছু করেছেন বলে বক্তব্য দিলেও একটা ইউনিয়নের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সেই গণতন্ত্র কি রক্ষা করেছেন। যতদূর খবর পেয়েছি, না।
নেতাদের কাছের বা কনিষ্ঠ জনরাই মনোনীত হচ্ছেন। নেতার একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে বা তার স্বার্থ উদ্ধারের অনুগত ব্যক্তি মনোনয়ন পাচ্ছেন। মনোনীত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বা দলের জন্য ত্যাগ বা তৃণমূল নেতারা প্রার্থী হিসেবে কোন নেতাকে চেয়েছেন তাও জানাতে চায়না মনোনয়ন দাতারা।
অনুজ প্রতীম ছাত্রনেতা একদিন আমাকে কিছু কথা বলেছিল। সে কথাগুলো হচ্ছে হবহু তুলে ধরে লেখাটা শেষ করবো।
“ভাইয়া,
আওয়ামীলীগ বলো আর বিএনপি বলো, কোন দলেই গণতন্ত্র নেই। মুজিব সেনা ও জিয়া সেনা কিংবা নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া অথবা তারেক জিয়া বা জয় যারই লোক হই না কেন, কোন কাজ হবে না।
হয় হতে হবে নেতার লোক, নইলে পদবী বা মনোনয়ন কিছুই হবে না।”
আর গনতন্ত্র তো বক্তব্যের ভাষায় থাকে। কোথায়ও খুজে পাওয়া যাবে না।