খেয়া ভাড়া ১ টাকা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নতুন বাংলা বছরের শুরু থেকে নগরীসহ জেলার খেয়া ঘাট থেকে পারাপারকারী যাত্রীদের ভাড়া ১ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ভাড়া বাড়িয়ে নেয়ার সকল কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। আগামী ১লা বৈশাখ থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এমনিতেই খেয়াঘাট ইজারাদাররা যাত্রীদের জিম্মি করে বেশি ভাড়া আদায় করে। তার উপর জেলা পরিষদের ভাড়া বাড়ানোয় যাত্রীরা ক্ষুদ্ধ হয়েছে। যাত্রীরা ভাড়া বৃদ্ধির নামে ইজারাদারদের অনিয়মের সমর্থন দেয়ার কৌশলের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে খেয়া ঘাটে অনিয়ম এবং ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবীতে বাকেরগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদ ও কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের নিকট স্মারক লিপিও দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বাকেরগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, মিরগঞ্জ এবং বরিশাল সদর সহ বিভিন্ন উপজেলায় ২৩টি খেয়াঘাট রয়েছে। যে গুলো প্রতি বছর পহেলা বৈশাখের পূর্বে দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়। এবারের ইজারায় মানুষ, মালামাল এবং যানবাহন প্রতি বাড়ানো হয়েছে ১ টাকা করে। জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সরেজমিনে দেখাগেছে, সরকারী ভাবে খেয়া ঘাটে মানুষ পারাপার জন প্রতি ভাড়া
২ টাকা। কিন্তু সেখানে রাখা হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকা। চালক সহ বাই সাইকেল ৪ টাকা হলে আদায় করা হচ্ছে ৮/১০ টাকা। চালক সহ মোটর সাইকেল ৬ টাকা হলেও রাখা হচ্ছে সর্ব নি¤œ ৩০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি বান্ডিল ঢেউটিন পাড়াপাড় ভাড়া ১০ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে সর্বনি¤œ ৫০ থেকে একশ টাকা। গরু-মহিষ পাড়াপাড়ে ৫ টাকা আদায়ের কথা থাকরেও নেয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ২টাকা ভাড়া নির্ধারন করা হলেও সেখানে নিচ্ছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা। সরকারী বিধি মোতাবেক স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থী ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের খেয়া-পাড়াপার সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’ হলেও এসব নিয়মের ধার ধারে না ইজারাদাররা। খেয়া পাড়াপাড় করতে হলে শিক্ষার্থী এবং ৫ বছরের নিচের বয়সি শিশুদেরও বাধ্যতামুলক গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বিশেষ করে হিজলা-মুলাদী, মিরগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের কলসকাঠি খেয়াঘাটে এমন জুলুম এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। তবে জোর জুলুম দেখার কেউ না থাকলেও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়ার বহু নজির রয়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলশকাঠি গ্রামের স্কুল শিক্ষক আনসার আলী, মুলাদীর কলেজ ছাত্রী তাসলিমা আক্তার পলি, মিরগঞ্জের ব্যবসায়ী ছত্তার মুন্সি পরিবর্তনকে জানান, এমনেতেই তাদের কাছ থেকে জোর করে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তার মধ্যে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধি করলে সাধারন মানুষকে আরো ভোগান্তিতে পড়তে হবে।