খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌ বাহিনীর জন্য নির্মিত দুটি এলসিইউ হস্তান্তর

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত দুটি ‘ল্যন্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি-এলসিইউ’ হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শিঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং শেষে এসব যুদ্ধ সহায়ক নৌযান ব্যবহার শুরু করবে নৌ বাহিনী।
২০১৩এর ১সেপ্টেম্বর ১৩৭ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৩ফুট প্রস্থ এ ‘ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি-এলসিইউ’ দুটির নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ বাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল ফরিদ হাবিবÑএনডিসি, পিএসসি-বিএন। খুলনা শিপইার্ডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালাক এস ইরশাদ আহমদ এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-বিএন গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কাছে এ যুদ্ধ সহায়ক নৌযান দুটি হস্তান্তর করেন। যুদ্ধকালীন সরঞ্জাম ও সরবারহ সহায়তা ছাড়াও যেকোন দুর্যোগকালীন সময়েও এসব সামরিক নৌযান দুর্গত এলাকায় ত্রান পৌছে দেয়া সহ উদ্ধার তৎপড়তায়ও অংশ নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ভাড়ী মেশিন গান ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সহ সাজোয়া যান ছাড়াও ৪১৫টন পণ্য পরিবহন করবে এসব এলসিইউ। এলসিইউ’গুলোতে সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ৫০টন ওজনের সামরিক ট্যাংক ও বুল ডোজার সহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামও বহন করা যাবে।
দেশের অভ্যন্তরীন এবং উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদী পরিবহন ছাড়াও দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রান ও উদ্ধারকাজেও অংশ গ্রহন করবে এসব নৌযান। প্রায় ৫মিটার গভীরতার এসব সামরিক নৌযান যেকোন আপতকালীন পরিস্থিতিতে ১০নটিক্যল মাইল বেগে প্রয়োজনীয় স্থানে ছুটে যেতে সক্ষম। নৌযানগুলোতে ৬শ অশ্ব শক্তির ২টি করে মূল ইঞ্জিন সহ ৫০কিলোওয়াটের ২টি করে জেনারেটরও সংযোজন করা হয়েছে। এসব সামরিক নৌযান পরিচালনায় সব ধরনের অত্যাধুনিক সরঞ্জামও সংযোজন করা হয়েছে। এর পরিচালন পদ্ধতিও সম্পূর্ণভাবে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর।
খুলনা শিপইার্ড ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ও নৌ বাহিনীর জন্য আরো একাধীক এলসিইউ এবং এলসিইউপি নির্মাণের গৌরব অর্জন করেছে। বহরে এসব সামরিক সহায়ক নৌযান সংযোজনের ফলে আমাদের সেনা বাহিনী ও নৌ বাহিনী তার সামরিক কর্মকান্ডে যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ হবে বলেও আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর নিয়ন্ত্রনাধীন খুলনা শিপইয়ার্ডও তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে আরো একধাপ এগিয়ে গেল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮-এর শেষভাগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পরে খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে ৫টি মধ্যম মানের যুদ্ধ জাহাজ ছাড়াও একাধীক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪টি অয়েল ট্যাংকার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ও নৌ বাহিনীর জন্য ল্যান্ডিং ক্রাফট সহ বিভিন্ন ধরনের বিপুল সংখ্যক সামরিক ও বেসামরিক নতুন নৌযান তৈরীর কাজ সম্পন্ন করেছে। এছাড়া খুব শিঘ্রই এ প্রতিষ্ঠানটিতে আরো দুটি বড় মাপের অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ কাজেরও সূচনা হতে যাচ্ছে। উপমহাদেশের অন্যতম আধুনিক এ নৌ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য দুটি কন্টেইনার জাহাজ ছাড়াও একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আরো ২টি কার্গো কাম কন্টেইনার জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে। চলতি বছরই বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কন্টেইনার জাহাজ দুটি সরবারহ সম্পন্ন হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ বিআইডব্লিউটিসি’র কন্টেইনার জাহাজ দুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে তা সরবারহ করার লক্ষে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি দুটি সাবমেরিন টাগ তৈরীর বরাত লাভের বিষয়টিও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে।
১৯৯৮সালের শেষভাগে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পরে প্রায় পৌনে ২শ কোটি টাকার দায়দেনা ও লোকসান কাটিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে আরো প্রায় সোয়া ২শ কোটি টাকা নীট মুনফা অর্জনেও সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সেরা করদাতার গৌরব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সেরা দক্ষতা ও দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদানের স্বীকৃতি হিসবে খুলনা শিপইয়ার্ডকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কস্ট ম্যনেজমেন্ট-এর ‘আইসিএমএবি বেস্ট পারফরমেন্স এ্যাওয়ার্ড’ ও ‘বিজনেস এক্সিলেন্স এওয়ার্ডস সিংগাপুরÑ২০১৪’ প্রদান করা হয়েছে।