খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নিবে না- মির্জা ফখরুল

ভোলা প্রতিবেদক ॥ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই। তবে সে নির্বাচন অবশ্যাই হতে হবে সকল দলের অংশ গ্রহণে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। এর জন্য প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে এমন একটি সহায়ক সরকার। যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। আমরা অল্পদিনের মধ্যেই আমরা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিব। আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। আশাকরি সরকার তাতে সারাদিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করবে। শুধুমাত্র উস্কানিমুলক বক্তব্য দিয়ে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নিবে না।
গতকাল শনিবার দুপুরে ভোলা জেলা বিএনপির সম্মেলণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, দেশবাসী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ও জনপ্রতিনিধিকত্বশীল সরকার গঠন করতে চায়। আর মানুষের এ আকাঙ্খা পূরণ করতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৩ দফা দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গ্রহণ না করে সরকারের পছন্দীয় একজন ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন করেছেন। বিএনপিকে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সাল ছাড়া বাকী সবগুলো জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করেছে। জনগণের আস্থা ও স্বস্তির তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন দেওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়।
শহরের চরনোয়াবাদ ইসলামিক কমপ্লেক্সে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলণের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড মজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিছ জাহান শিরিন। প্রধানবক্তা সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, বিশেষ বক্তা সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম। জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান। বক্তব্য রাখেন, বিএনপি জাতীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, হায়দার আলী লেলিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, যুগ্ম সম্পাদত হুমায়ুন কবির সোপান, সদর উপজেলা সভাপতি আসিফ আলতাফ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রব আকন, আনোয়ার হোসেন ভুইয়া, মোঃ শাজাহান, মহিবুল্যাহ নাগর, মোতাহার হোসেন আলমগীর, ইয়ারুল আলম লিটন, এ্যাড. মো. ছালাউদ্দিন হাওলাদার, পিযুষ কান্তি হালদার, শহিদুল ইসলাম মানিক, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, জামিল হোসেন ওয়াদুদ, খন্দকার আল আমিন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জেলা বিএনপির সম্মেলণকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দিপনা সৃষ্টি হয়। গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা সম্মেলণস্থলে আসে।