কোচিং বাণিজ্যের ফলে শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির মুখে-মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকার থেকে একের পর এক প্রজ্ঞাপন জারির পরেও বন্ধ হচ্ছে না কোচিং বানিজ্য। উল্টো নগরীর আনাচে-কানাচে ব্যাংঙে’র ছাতার মত গজিয়ে উঠছে একের পর এক কোচিং সেন্টার। এর ফলে সরকারের লক্ষ্য অর্জন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানষিক বিকাশ চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই কোচিং বানিজ্য বন্ধ করতে আন্দোলনে নেমেছেন অভিভাবকরা। গতকাল বৃহস্পতিবারও তারা নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তারা দাবী তুলেছেন অবিলম্বে কোচিং বানিজ্য বন্ধ করার দাবি তুলে ধরেন বলেন, কোচিং বাণিজ্যের ফলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। অভিভাবকরা যেমন সর্বশান্ত হচ্ছেন, তেমনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষার কোনো অধিকার নেই, শিক্ষা আজ পণ্যে পরিণত হয়েছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সুশিক্ষার হার। এই জন্য অভিভাবকরা দায়ী করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। তাদের সুষ্ঠু তদারকী এবং অনৈতিক উদ্দেশ্যে’র কারনেই কোচিং বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। ‘সচেতন বরিশালবাসী’ ব্যানারে এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার জোট সভাপতি ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান। এসময় বক্তব্য রাখেন- বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেন, শিক্ষক নেতা দাশ গুপ্ত আশীষ কুমার, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মিন্টু কুমার কর, উন্নয়ন সংগঠন সেন্ট বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গির কবীর, শুভংকর চক্রবর্তী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজল ঘোস, উন্নয়ন সংগঠন কর্মী সিরাজুল ইসলাম, হাসিনা বেগম নীলা প্রমুখ।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোচিং বাণিজ্যের ফলে শিশুরা আজ স্বাভাবিক জীবন-যাপন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বন্ধের দিন শুক্রবার সবার ছুটি থাকলেও কোচিং বাণিজ্যের কারণে সেদিন থেকেও রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে এ শহরের অবৈধ কোচিং বাণিজ্য ব্যাবসা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগর জুড়ে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ কোচিং সেন্টার। প্রায় প্রত্যেকটি এলাকায় এবং অলিগলিতে বিভিন্ন নামে এসব কোচিং সেন্টারের পরিচিত ও  দৃষ্টি কাড়ার লক্ষ্যে ব্যানার, পোষ্টার এবং বিলবোর্ড ছেড়ে গেছে। বিশেষ করে নগরীর ৬টি স্কুল ও কলেজে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং সেন্টার গুলোর তৎপরতা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিভাবকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দেয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েই কোচিং বানিজ্য জমজমাট করে তুলেছেন তারা। আর এই কোচিং বানিজ্যের সাথে নগরীর ছয়টি সরকারি স্কুল এবং স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরাই জড়িত রয়েছেন সূত্র নিশ্চিত করেছে। অথচ কোচিং এবং প্রাইভেট বানিজ্য বন্ধে কড়া নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। কোন প্রকার কোচিং বানিজ্য পরিচালনা না করার জন্য ইতিমধ্যে দফায় দফায় প্রজ্ঞাপনও জাড়ি করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে। কোচিং সেন্টার ও কোচিংবাজ শিক্ষকদের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিপ্তরকে। সারা দেশের ন্যায় মাউশি বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশালের ৬ জেলায় ইতিমধ্যেই কোচিং সেন্টার এবং কোচিংবাজ শিক্ষকদের তালিকা তৈরী শুরু হয়েছে বলে দাবী জেলা শিক্ষা অফিসারদের। অবশ্য মাঠ পর্যায়ে এর অগ্রগতী শূণ্যের কোটায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাছাড়া তালিকা তৈরীর বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তাদের দাবী উপজেলাকে মন্ত্রনালয়ের আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা বলছেন তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। তবে এর শেষ কবে হবে সে সম্পর্কে কেউ অবগত নন। অবশ্য মাঠ পর্যায়ে কোচিং সেন্টার ও কোচিংবাজ শিক্ষকদের তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে সুভংকরের ফাঁকি এবং অসদ উদ্দেশ্য হাসিলের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। আর এ কারনেই কোচিং বানিজ্যের ফাঁদ থেকে সহসাই রক্ষা পাচ্ছে না কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তাই মানববন্ধনে নগরীর সকল অবৈধ কোচিং সেন্টার বন্ধের মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানষিক বিকাশের সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।