কে কোন মাদক বিক্রি করবে নির্ধারন করেছে ওসি শাখাওয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কোতয়ালী মডেল থানার মডেল ওসি শাখাওয়াতের কারনে মাদকে ভাসছে নগরীর কেডিসির আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি কলোনী। তাকে মোটা অংকের মাসোয়ারা দিয়ে সেখানে বসে মাদকের হাট। আর এ হাট থেকে প্রতি মাসে ওসি শাখাওয়াত আয় ক প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এদিকে শুধু ওসি শাখাওয়াত নন, একই কলোনী থেকে মাসোহারা আদায় করে মাদক ব্যবসায়ীদের সমর্থন করে আসছেন মডেল থানার প্রভাবশালী এসআই মহিউদ্দিন শেখ ও এএসআই সমিরন মন্ডল। কেডিসি কলোনীর এক চিহ্নিত গাজা স¤্রাটের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেডিসি’র ওই গাজা স¤্রাট পরিবর্তনকে জানায়, বরফকল বস্তি থেকে শুরু করে আব্দুর রজ্জাক স্মৃতি কলোনীর শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত তিনজন চারজন মাদক স¤্রাট রয়েছে। এর মধ্যে দু’জন গাজা স¤্রাট ও দু’জন ইয়াবা ও হেরোইন স¤্রাজ্ঞি। এরা হলেন, শিল্পকলা একাডেমির পেছনের বাসিন্দা গাঁজা মালেক, তার ভাই গাঁজা ছালেক ও বরফকল বস্তির ইয়াবা ও হেরোইন স¤্রাজ্ঞি লাবনী ও শিল্পি। এছাড়া কেডিসি বস্তিতেই রয়েছেন অপর গাজা স¤্রাট রহমান। মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন এ চার মাদক ব্যবসায়ীকে পৃথক পৃথক ভাবে গাজা, ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রির মৌখিক নির্দেশ দিলেও তারা সকল ধরনের মাদক দ্রব্য বিক্রি করে।
কেডিসি’র ওই গাজা ব্যবসায়ী জানায়, গাজা মালেককে প্রতি মাসে গাজা বিক্রির জন্য কোতয়ালী ওসিকে দিতে হয় ৪০ হাজার টাকা ও ১৫/২০ কেজি গাজা। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসার জন্য ইয়াবা স¤্রাজ্ঞি লাবনী এবং শিল্পিকে দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা ও কমপক্ষে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। অপর জন গাজা স¤্রাট রহমানকে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি গাজা। ওসি শাখাওয়াতের মাদকের টাকা আদায় করে দেন শাখাওয়াতের ঘনিষ্ঠ শিশ্য এএসআই সমিরন মন্ডল। ওসি শাখাওয়াত ছাড়াও সাবেক কমিশনার মোঃ শাসুদ্দিন এর ক্ষমতা বলে মডেল থানার প্রভাবশালী এসআই মহিউদ্দিন শেখ ও এএসআই সমিরন মন্ডলকেও আলাদা ভাবে ঐ মাদক স¤্রাট এবং স¯্রাজ্ঞিদের দিতে হচ্ছে আলাদা আলাদা মাসোহারা।
মাসোহারা দিয়ে থানার বরবাবু শাখাওয়াত হোসেন ও প্রভাবশালী দুই এসআই ও এএসআইকে ম্যানেজ করেই তারা ঝামেলা ছাড়া বসিয়েছেন মাদকের হাট। ওসি সহ ঐ তিনজনকে উৎকোচ দেয়ায় অন্যান্য অফিসররাও তাদের বিরক্ত করে না। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে মাদক ক্রেতাদের আটক করে। তবে এক মাসের টাকা দিতে দেরী হলেই মাদক ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে রেড এলার্ড জারী করে দেন ওসি। আবার টাকা দিলেই রেড এ্যালার্ড শেষ।
সূত্রটি আরো জানায়, ওসি যাকে যে মাদক বিক্রির অনুমতি দিয়েছে সে তাই বিক্রি করতে পারবে। এর বাইরে অন্যকোন মাদক বিক্রি করলে তাতে এক দিকে দিতে হয় অতিরিক্ত মাসোহারা ও অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হয় মাদক। সূত্রটি উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি ঐ দুই মাদক স¤্রাজ্ঞির মধ্যে একজন নিয়ম না মেনে ইয়াবার পাশাপাশি গাজা বিক্রি করায় বস্তা ভর্তি বিপুল পরিমান গাজা উদ্ধার করে পুলিশ। আবার সেখান থেকে এসআই মহিউদ্দিন গাজা আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। কিন্তু পরে তা ফাঁস হয়ে গেলে সেই গাঁজা জমা দিতে হয় থানায়। তবে ঐ মাদক স¤্রাজ্ঞির কাছ থেকে গাজা উদ্ধার করা হলেও তাকে বাদ দিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন প্রভাবশালী এসআই মহিউদ্দিন শেখ। আর এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে দেখিয়ে দেয়ার হুমকিও দেন মহিউদ্দিন। আর তাই মডেল থানার মডেল ওসি শাখাওয়াতসহ সাবেক কমিশনারের আশির্বাদপুষ্ট ঐ তিন পুলিশ অফিসার অপরাধের রাম রাজত্বে পরিনত করেন মডেল থানাকে। তাদের এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না ঐ থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা।