কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির নগরীর ফার্মেসী বন্ধ রাখার ডাক রোববার পর্যন্ত স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ভ্রাম্যমান আদালতের ভ্যাজাল বিরোধী অভিযানে জরিমানা করায় নগরীতে ধর্মঘট পালন করেছে ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে রাত প্রায় ১০ টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হয়। পরে ওষুধ প্রশাসন বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক শফিকুর রহমান’র পদত্যাগের দাবীতে ৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
এদিকে অন্যায় করেও শাস্তির হাত থেকে ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের রক্ষা পেতে ধর্মঘটের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের হাজার হাজার রোগীদের। জরুরী প্রয়োজনে মুমূর্ষ রোগীর জন্য ওষুধ না পেয়ে ছোটাছুটি করতে হয়েছে তাদের। হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিশেষ প্রচেষ্টায় ব্যবস্থা করা হয়েছে মুমূর্ষ রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ।
নগরীর বান্দ রোড শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ওষুধ ব্যবসায়ী হাওলাদার মেডিকেল হলেও মালিক খলিলুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে সদর রোডে নিউ মেডিকেল হল ও আল আমিন মেডিকেল হলে অভিযান চালায় ওষুধ প্রশাসন। এসময় জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সফিউল্লাহ ও সুখময় সরকার পৃথক পৃথক অভিযানে অনুমোদনহীন বিদেশী (কউটা) ওষুধ জব্দ করেন। এসময় নিউ মেডিকেল হলকে ৩০ হাজার ও আল-আমিন মেডিকেলকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এসময় জরিমানার টাকা না দিতে পারায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করে নিয়ে যায় বলেও জানান ওষুধ ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান।
তিনি আরো বলেন, ওষুধ আমদানীকারী কোম্পানি গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও তাদের অহেতুক হয়রানির প্রতিবাদে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, সদর হাসপাতাল রোড এবং সদর রোড সহ নগরীর সকল ওষুধ ব্যবসায়ীরা ফার্মেসী বন্ধ রেখে অর্নিদিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট পালন শুরু করেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী হাকিম সুখময় সরকার পরিবর্তনকে জানান, অনুমোদন বিহীন ওষুধ রাখায় দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ১৮ (ক) ধারায় দোষি সাব্যস্ত করে ২৭ ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়।
তিনি জানান, আদালত পরিচালনার সময় হঠাৎ করেই সদর রোড সহ নগরীর সকল স্থানে ওষুধের দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন শুরু করে। এজন্য হাজার হাজার রোগীদের বিপাকে পড়তে হয়।
এদিকে বিকালে ধর্মঘট পালন শুরু পরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোগীদের কথা চিন্তা করে ওষুধের দোকান খুলে দেয়ার আহবান জানান। এতে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে বিশেষ ব্যবস্থায় ওষুধ ব্যবসায়ীরা একটি ওষুধের দোকান খোলা রাখলেও বাকি সব ওষুধের কোন বন্ধ ছিলো। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলতে প্রশাসন ও ওষুধ ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌছাতে না পারলেও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে আটক ব্যবসায়ীকে জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন ব্যবসায়ী নেতারা। পরবর্তীতে নগরীর কাটপট্টি রোডে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত ১০টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন ব্যবসায়ীরা। তবে তারা ড্রাগ প্রশাসন বরিশাল’র সহকারী পরিচালক শফিকুর রহমানকে দুর্নিতীবাজ এবং ঘুষখোর আক্ষায়িত করে তার পদত্যাগ দাবী করেছেন।
বাংলাদেশ ক্যামিষ্ট এ্যান্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মফিজুল ইসলাম কামাল জানান, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি বরিশাল ফিরে আগামী রোববার এই সমস্যার সমাধান করবেন বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস্থ করেছেন। তাই আগামী রোববার পর্যন্ত তারা ধর্মঘট স্থগিত করেছেন। এ বিষয়ে কার্যকরি সিদ্ধান্ত ও ব্যবসায়ীদের দাবী মানা না হলে রোববার বিকাল থেকে পূনরায় ধর্মঘট পালন শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন ড্রাগিষ্ট এ্যান্ড ক্যামিষ্ট সমিতির এই নেতা।