কৃষিতে আধুনিকায়নে ৫ উপজেলার জন্য এসেছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের

সিদ্দিকুর রহমান॥ কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যন্ত্র দিয়ে রোপন করা হবে ধানের চারা। নিয়ন্ত্রিত ও নিখুত ভাবে নির্দিষ্ট পরিমানের চারা রোপনের ফলে সাশ্রয় হবে সময় ও অর্থের। কৃষি বান্ধব এমন যন্ত্রটির নাম হচ্ছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার। খামার যান্ত্রিকিকরনের মাধ্যমে ফলস উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় এই যন্ত্রটি কৃষকদের মাঝে নিয়ে আসা হয়েছে। বরিশাল জেলার ৫টি উপজেলায় যন্ত্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বর্তমানে সদর উপজেলায় প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। পরর্তীতে বাকি ৪টি উপজেলা বানারীপাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী ও মেহেন্দিগঞ্জে প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও এই প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সুবিধা সম্পর্কে অবগত করা হবে।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপনের জন্য চারা উৎপাদন কৌশল পূর্বের প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন। দুটি পদ্ধতি যথা ট্রে ও ডাবল ফিল্মের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই প্লান্টারের সাহায্যে ৩০-৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপন করা যাবে। এছাড়াও জ্বালানি (অকটেন) খরচ ঘন্টায় ০.৫-০.৬ লিটার। যা অন্যান্য কৃষি যন্ত্রের তুলনায় অনেক কম। বর্তমান সময়ে অর্থনেতিক ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে তিনি জানান। অন্যদিকে প্লান্টারের সাহায্যে চারটি সারিতে চারা রোপন করা যাবে। নিখুত ও নির্দিষ্ট পরিমানে চারা রোপনের ফলে সারি গুলো সোজা হয়ে থাকে। এছাড়াও চারা থেকে চারার দুরত্ব ১৩-১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিয়ন্তন করা সম্ভব হবে। চারা রোপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারি দুরত্ব হবে সেন্টিমিটার। এদিকে ৫৮২৮ বর্গ সেন্টিমিটার সাইজের ট্রেডে চারা তৈরি করতে হবে। এ সময় প্লান্টের সম্পর্কে আরও বলেন কাজ শেষে মেশিন ধোয়ার জন্য রয়েছে অটোমেটিক ওয়াটার পাম্প, ফলে খুব সহজেই মেশিন পরিস্কার করা সম্ভব হবে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলেও প্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপনে কোন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে না। সদর উপজেলার ৪টি প্রদর্শনীর মধ্যে নগরীর সাগরদি এলাকায় ২টি ও রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নে বাকি ২টি প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও খামার যান্ত্রিকিকরন প্রকল্পের আওতায় কৃষি ক্ষেত্রে এই যন্ত্রটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সূত্র থেকে জানা যায়। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান জানান, বীজ, শ্রম ও কম সময়ে অধিক জমিতে চারা লাগানোর ফলে উৎপাদন ব্যায় অনেকাংশে কমানো সম্ভব ও ফলনও বৃদ্ধি পাবে। এ সময় তিনি পরিবর্তনকে আরও জানান, ভরা মৌসুমে উচ্চ মূল্য দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। যার ফলে শস্য রোপন ও কর্তনের সময় দেশের কৃষকদের নানা হুমকির কবলে পড়তে হয়। এ সময় তাদের এই শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করতে এই যন্ত্রটি বেশ কাজে আসবে বলে তিনি জানায়। এছাড়াও তিনি জানান, কৃষি প্রযুক্তিতে যোগ হওয়া রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের বর্তমান মূল্য ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। যা একজন দরিদ্র কৃষকের প্রতি অসামর্থ বটে কিন্তু গ্রামের সর্বনি¤œ দশজন কৃষক একত্রিত হয়ে এই মেশিন ক্রয় করে তারা তাদের অর্থ ও সময় রক্ষা করে অধিক ফলন উৎপাদনে সক্ষম হবে। অন্যদিতে সদর উপজেলার রহিম হাওলাদার নামের একজন কৃষক জানান, রাইস প্লান্টের কথা শুনছি কিন্তু ক্রয় মূল্য আমাদের সাধ্যের বাইরে। যার ফলে এই যন্ত্রটি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি অধিদপ্তরের সাহায্য কামনা করেছেন। এদিকে কৃষি অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কৃষকদের মাঝে পৌছে দিতে প্রয়োজনে তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ গঠনের লক্ষ্যে কৃষি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে বর্তমানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।