কৃত্রিম সংকটে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বৃটিশ-আমেরিকান টোবাকোর সিগারেট বিক্রি বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতি বছর প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষনার পূর্বে তারা এমনটি করে ধুমপায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। একইভাবে তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য নগরীর বড় বড় মজুদদার ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেয়। এই কারনে বর্তমানে ওই কোম্পানীর প্রতি ব্রান্ডের প্রতি সিগারেটে খুচরা বিক্রেতারা ১ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে। প্রতি বছর তারা এভাবে বানিজ্য করলেও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষনে সংশ্লিষ্টসহ সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় না। এতে ওই কোম্পানী মানুষকে জিম্মি করার ধরন বেপরোয়া অবস্থায় নিয়ে গেছে। শুধু নগরীতে নয়, ওই কোম্পানী বর্তমানে দেশের কোন এলাকায় সিগারেট সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে কোন পন্যর উপর শুল্ক বেশি আরোপ করা হলেই হয়। তখন আর পাস হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তেমনভাবে দাম বেড়েছে তামাকজাত দ্রব্যের। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হওয়ার পূর্বে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করা সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের কারনেই দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। গতকাল শনিবার ওই কোম্পানীর নগরীর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জে আহম্মেদ এন্ড কোম্পানী থেকে বিক্রয়ের জন্য কোন সিগারেট বাজারে ছাড়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বিক্রেতারা ওই ডিলারে নগরীতে নির্ধারিত কিছু মজুদদারদের কাছ থেকে ক্রয়ে বাধ্য হচ্ছে। তাদের করে দেয়া কৃত্রিম সিগারেটের সংকটে উচ্চমূল্যে তা বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে কোম্পানীর দাবী প্রধান অফিসের নির্দেশেই বন্ধ রাখা হয়েছে সরবরাহ। শুধু বরিশালেই নয় আজ তা বন্ধ ছিল সারা বাংলাদেশে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ কালে ক্রেতারা অভিযোগ করে নগরীরর বিভিন্ন স্থানের খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের সিগারেটের দাম বাড়িয়ে রাখছে। প্রতি সিগারেটে ১/২ টাকা বেশি রাখছে তারা। কেন বেশি রাখা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন করলে কোম্পানীর মাথায় দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে সহজেই। নগরীর সদর রোড এর মত ব্যস্ত স্থানে দাম ঠিক থাকলেও শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে রাখা হচ্ছে বাড়তি দাম। ব্যবসায়ীদের কথা বাজেটে দাম বাড়বে তাই এখনই বেশি দিতে হবে। তবে বাজেট এখনও ঘোষনা না হওয়ার বিষয় তুলে ধরলে তারা বলে, দোষ সব কোম্পানীর। কারন তাদের অনিয়মিত সরবরাহের কারনেই তৈরি হচ্ছে সংকট আর এই সুযোগে বাড়ছে দাম। এ বিষয়ে নগরীতে তামাকজাত দ্রব্যের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জে আহম্মেদ কোং এর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, গতকাল শনিবার শুধু বরিশালেই নয় সিগারেটের সরবরাহ বন্ধ ছিল সারা বাংলাদেশেই। প্রদান অফিসের নির্দেশেই বন্ধ রাখা হয়েছিল সরবরাহ। তবে দাম এখনও বাড়েনি কারন বাজেট ঘোষনা হয়নি। বাজেটে দাম বাড়লে তার সরকারি মূল্য তালিকা পাওয়ার পরই দাম বাড়বে। সরবরাহের বিষয়ে অফিস আরো জানায়, কবে নাগাদ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা জানা নেই। প্রধান অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী কিছু হবে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় শাখার সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, দাম এখনো বাড়েনি। যারা দাম বেশি রাখছে তারা অন্যায় করছে। বাজেটের পর দাম বৃদ্ধি পেলে তবেই বেশি দামে বিক্রি করতে পারেবে। যারা এসক দ্রব্যের অধিক মূল্য নিচ্ছে তার সঠিক প্রমাণ সহ যদি অভিযোগ দেয়া হয় তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজেট পূর্ন ঘোষনার আগ পর্যন্ত মার্কেট রিটেইল প্রাইজ বা বাজারের খুচরা মূল্যেই বিক্রি করতে হবে।