কৃত্রিম সংকটে দ্বিগুন দামে “ইলিশ”

রুবেল খান ॥ আসছে বাংলা নববর্ষকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে ইলিশের বাজারে। গত একদিন পূর্বে যে ইলিশ কিছু টাকা হলেও কমে বিক্রি হয়েছে গতকাল শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে প্রায় দ্বিগুন মূল্যে। আগামী পহেলা বৈশাখের পূর্বে ইলিশের মূল্য আরো কয়েক দফা বাড়বে বলে আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে এবার পান্তা ইলিশে বৈশাখ বরণ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন বরিশালবাসী।
বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী আর ৫ দিন বাদেই দেশবাসী বরণ করে নিবে নববর্ষকে। বাঙ্গালী ঐতিহ্যের ধারা প্রবাহে পহেলা বৈশাখের দিন পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ ভাজা খেয়ে বর্ষকে বরণ করে থাকেন সর্বস্তরের মানুষ। আর সেই ঐতিহ্যকে পুঁজি করেই ইলিশের মূল্য আকাশচুম্বি হয়ে করে তোলা হয়েছে। অবশ্য মৎস্য আড়ৎদাররা এ জন্য দায়ী করছেন নদীতে ইলিশ সংকট এবং জেলেদের মাছ ধরতে না দেয়াকে।
গতকাল শুক্রবার বরিশালের বৃহত্তম মৎস্য আড়ৎ নগরীর পোর্ট রোডে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশে বৈশাখীর প্রভাব। আর সেই প্রভাবে ইলিশের মূল্য মণ প্রতি দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। তার পরেও আড়ৎদারদের দাবী এখন পর্যন্ত ইলিশের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল পোর্ট রোডে ইলিশ কিনতে আসা পাইকার আল আমিন জানান, ইলিশের মূল্য দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মধ্যে গতকাল ইলিশের আমদানীও পূর্বে থেকে কম ছিলো। এর পরে আবার গ্রেড সাইজের ইলিশ নিয়ে চলছে সিন্ডিকেট।
তিনি বলেন, গতকাল গ্রেড সাইজের ইলিশ প্রতি মণ কিনতে হয়েছে সর্বনি¤œ দেড় লাখ টাকা দরে। যার মূল্য একদিন পূর্বে ছিলো এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া ৬শ থেকে ৯শ গ্রাম (এলসি) সাইজের ইলিশ প্রতি মণ ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ, ৪শ গ্রাম থেকে ৫শ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৪৫ হাজার থেকে ৫৫ হাজার এবং জাটকা মণ প্রতি ২৫ হাজার টাকা দরে কিনতে হয়েছে। গত দু’দিনের ব্যবধানে ইলিশের মূল্য প্রকার ভেদে মণ প্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবী পাইকারদের।
তবে মৎস আড়ৎদারদের দাবী গত দু’দিনের থেকে গতকাল শুক্রবার ইলিশের মূল্য কিছুটা কম ছিলো। কারণ গতকাল ইলিশের আমদানীও একটু বেশি ছিলো।
পোর্ট রোডের মৎস্য আড়ৎদার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল বলেন, শুক্রবার একশ মণের বেশি ইলিশ মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে এসেছে। যা গত দু’দিনের থেকে কিছুটা হলেও বেশি। এজন্য দু’দিনের থেকে গতকাল ইলিশের মূল্যও একটু কম ছিলো। ইলিশের মূল্য এর বেশি না বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।