কুয়াকাটায় পিকনিকে যাওয়া নগরীর বিউটিশিয়ান’র মৃত্যু নিয়ে রহস্য ॥ মায়ের অভিযোগ হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুয়াকাটায় পিকনিকে গিয়ে লাশ হলো নগরীর বৈদ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিউটিশিয়ান যুবতী। গতকাল সোমবার এ ঘটনার শিকার বিউটিশিয়ান হলো-নগরীর বৈদ্যপাড়া এলাকার পেয়ারা মঞ্জিলের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ধর্মদাস মজুমদারের কন্যা মিতা মজুমদার। হাসপাতালে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় মিতাকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে পটুয়াখালী হাসপাতালের মর্গে পড়েছিল তার লাশ। বিউটিশিয়ানে মায়ের অভিযোগ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে নগরীর বিএম কলেজ এলাকার এরিনা বিউটি পার্লারের মালিক মো. আলমগীর। মিতা আলমগীরের ওই পার্লারে কাজ করতো। আলমগীরের দেয়া কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কন্যাকে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে পালিয়েছে সে। এই ঘটনায় তিনি মামলা করবেন।
বিউটিশিয়ানের মা সরলতা মজুমদার জানান, কাশিপুরের দিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ডিশ ব্যবসায়ী আলমগীরের বৈদ্যপাড়ার প্রবেশ মুখে এরিনা পার্লার রয়েছে। ওই পার্লারে কাজ করতো মিতা। এক পর্যায়ে মিতাকে অনৈতিক কর্মে জড়িত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। এতে মিতা রাজি হয়নি। এরপরেও তাকে প্রায়ই প্রস্তাবে রাজি করতে চেষ্টা করতো আলমগীর। এক পর্যায়ে দুই মাস পূর্বে মিতা পার্লারের কাজ ছেড়ে দেয়। কিন্তু আলমগীরের উত্যক্তের হাত থেকে রেহাই পায়নি। দারিদ্রতা ও সংখ্যালঘু হওয়ার সুযোগ নিয়ে বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালি দিত।
মিতার মা আরো জানান, রোববার রাত ১১টায় কন্যা মিতা বান্ধবীদের সাথে কুয়াকাটা পিকনিকে যায়। এই খবর পেয়ে আলমগীর বাসায় এসে মিতাকে কেন কুয়াকাটা যেতে দিয়েছে জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। পরে তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে কুয়াকাটায় যায়। সকালে তারা কুয়াকাটায় গিয়ে মিতাকে জোর করে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে রওনা দেয়। বিষয়টি মিতা তাকে ফোন করে অবহিত করেছে।
মিতার মা জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় আলমগীর তাকে ফোন করে জানায় সড়ক দুর্ঘটনায় মিতা আহত হয়েছে। তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে যেতে বলে। খবর শুনে মিতার মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধ পেয়েছেন। পরে আলমগীরের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পান। এরপর থেকে আলমগীরের কোন খবর নেই।
মিতার মা সরলতা অভিযোগ করেন, কন্যাকে হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা কথা জানিয়ে লাশ ফেলে রেখে পালিয়েছে।
পটুয়াখালী হাসপাতালের ব্রাদার সাংবাদিকদের জানান, সকাল ১০ টা ১০ মিনিটে অজ্ঞাত এক যুবক যুবতীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ফেলে রেখে পালিয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। তারা সুরতহাল রিপোর্ট করে যুবতীকে বেওয়ারিশ হিসেবে মর্গে সংরক্ষন করে। পরে সুবর্না মন্ডল নামে এক নারী ফোন করে যুবতীর পরিচয়ে নিশ্চিত করেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি হত্যা না সড়ক দুর্ঘটনা ময়না তদন্ত না করে নিশ্চিত বলা যাবে না। তাই অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। প্রকৃত কারন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।