কুয়াকাটায় পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা

রুমান ইমতিয়াজ তুষার, কুয়াকাটা ॥ পর্যটন নগরী কুয়াকাটা পৌরসভা সহ আশপাশের ৫টি ইউনিয়নে অপরিকল্পিত বাঁধ আর রাস্তা নির্মানের কারনে বৃষ্টির পানি জমে পানিবন্দি হয়ে আছেন প্রায় ৫লাখ মানুষ। পানি নিস্কাসনের শেষ ভরসা স্লুইজগেট গুলো রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলে। কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। বীজতলা নষ্ট হয়ে চরম বিপাকে হাজার হাজার কৃষক।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করে শুরু রাস্তা নির্মান করায় সপ্তাহ ব্যাপি বর্ষণে কুয়াকাটা পৌরসভার বেশীরভাগ এলাকা গত ১০দিন ধরে পানিবন্দি। অপরদিকে মাছ ধরার জন্য সিষ্টেমে লিজ নিয়ে স্লুইজগেটগুলো প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে। ব্রীজের পরিবর্তে ডালবুগঞ্জ গাববাড়িয়া নদীতে বাঁধ দেয়ায় পানিবন্দি হয়ে আছে ৫টি ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ। বীজ তলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম হতাশা শুরু হয়েছে কৃষকদের মাঝে। দ্রুত গাববাড়িয়া নদীর উপর সম্প্রতি নির্মান করা বাঁধ কেটে না দিলে চলতি মৌসুমে বন্ধ হয়ে যাবে চাষাবাদ, চরম দূর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে আগামী শুকনো মৌসুমে এমন আশংকা করছেন কৃষকরা।
ডালবুগঞ্জ, খাপড়াভাঙ্গা, বালিয়াতলী,মধুখালী, ধুলাসার ইউনিয়নের অসংখ্য কৃষক জানিয়েছেন, এই ইউনিয়ন গুলোর সকল পানি বের হয় ডালবুগঞ্জ নদী দিয়ে। অথচ সেখানে চলাচলের জন্য ব্রীজের পরিবর্তে এত বড় নদীটিতে বাঁধ দেয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকটি লাখ লাখ মানুষ। তারা আরো জানায় এমনিতেই এই মৌসুমে বৃষ্টি দেরিতে হওয়ায় বীজতলা করতে অনেকটা দেরি হয়েছে। তার উপর দীর্ঘদিন পানি বন্দি থাকায় সব বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।
ডালবুগঞ্জ মনসাতলী গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, এর চাইতে আমাগোরে মাইরা হালান। চাষ করতে না পারলে চুরি কইরাওতো খাইতে পারমুনা।
মহিপুর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন জানান, আমাদের ইউনিয়নে ৫টা স্লুইজগেট এর অনেকটা আছে প্রভাবশালীদের দখলে। অনেকদিন ধইরা পানিবন্দি আছি বীজতলা শেষ অইতেছে দেখার কেউ নাই।
কুয়াকাটা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ ভুইয়া বলেন ভাই ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে কর্তৃপক্ষ কিছুই করছেনা। পরে নিজের উদ্যোগে পাম্প দিয়া পানি শুকাইতেছি। এভাবে অনেকে আবার পাইপ দিয়ে পানি নামানোর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক জাহাঙ্গির হোসেন জানান, আমরা চেষ্টা করছি কি ভাবে সমস্যাগুলো দূর করা যায়।