কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের নিলাম বিজ্ঞপ্তি ৬ মাস স্থগিত

সাইদ মেমন॥ কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের নিলামে বিক্রির কার্যক্রম ৬ মাস স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চাদালতের এক দ্বৈত বেঞ্চ। এছাড়াও ঢাকা ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা অতিক্রম না হওয়ার পরেও খেলাপী অভিহিত করে নিলামের আয়োজন করায় কারন দর্শানোর নোটিশ জারীর আদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উচ্চাদালতের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌসের রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেয় দ্বৈত বেঞ্চ।
স্বত্ত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস অভিযোগ করেন, নিলাম বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার আদেশ দেয়ার পর একটি মহল লঞ্চ চলাচল বন্ধের চেষ্টা করছেন।  মহলটির যড়যন্ত্রে বিআইডব্লিউটিএর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মহলটি ষড়যন্ত্রে সফল হলে ঈদ ও পূজায় নারীর টানে বাড়ী ফেরা হাজারো যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
উচ্চাদালতের করা পিটিশন থেকে জানা গেছে, ঢাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কীর্তনখোলা লঞ্চ তৈরি করা হয়। বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলরত কীর্তনখোলা লঞ্চের ঋণের কিস্তি বকেয়া দাবি করে ঢাকা ব্যাংকের বরিশাল সদর রোড শাখার ব্যবস্থাপক। এই জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ব্যাংকের বরিশাল সদর রোড শাখা স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে কীর্তনখোলা-২ লঞ্চ নিলামে বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় গত ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা লঞ্চ স্বত্তাধিকারী।
কিন্তু উচ্চাদালতে করা পিটিশনে মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌসের জমা দেয়া (এ্যানেক্সার-জি) সংযোজনী-জিতে উল্লেখ করেছেন ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করেছেন। যা ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া ঋণ সুবিধা ও নিরাপদের জন্য তার বন্ধকী রয়েছে। ঋণের বিপরীতে গত ২৮ আগষ্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৫ লাখ টাকার কিস্তি পরিশোধ করেছেন। তাই প্রকাশিত বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখার জন্য পিটিশনে (যার নং ৪৭৪৪) আর্জি জানিয়েছেন মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস।
মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস জানান, নিলামে বিক্রির দরপত্র আহবান ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বেঞ্চ। তাকে কেন ঋণ খেলাপী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে তা ৪ সপ্তাহের মধ্যে বেঞ্চকে অবহিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর, ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
মঞ্জরুল আহসান ফেরদৌস অভিযোগ করেন, একটি মহল উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে এই হয়রানী করছে। ফেরদৌসের দাবি বৃহস্পতিবার আদেশ পাওয়ার পর মহলটি এখন লঞ্চ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছে। ফেরদৌস জানান, আদেশ পাওয়ার পর লঞ্চ চলাচলের প্রয়োজনীয় সনদ ও  কাগজপত্র নিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল এসেছে। বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে বাধাঁ দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। ফেরদৌস বলেন, ওই মহলটি বিআইডব্লিউটিএ’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহায়তায় চলাচল বন্ধ রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এই বিষয়টি মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। মহলটি নৌ পরিবহন মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছিলো। তা তাকে শুধরে দেয়া হয়েছে বলে জানান মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস।
তিনি বলেন, বর্তমান ঈদ মৌসুমে প্রচুর যাত্রীর চাপ। বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে হজ্জের যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এখন লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে না পারলে তারা ভোগান্তিতে পড়বে।
তিনি বলেন, এই লঞ্চের যাত্রী ধারন ক্ষমতা ২ হাজার। ঈদ ও পূজার এই মূহুর্তে লঞ্চটি বন্ধ রাখা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-পথ সংরক্ষন ও পরিচালনা বিভাগের পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার বলেন, উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, তার রুট পারমিট গত বৃহস্পতিবার শেষ হলেও ফিটনেস সনদ আছে। যাতে সাময়িকভাবে চলাচলের অনুমতি দেয়া যায়। কিন্তু উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কারনে তাও দেয়া যাচ্ছে না।