কীর্তনখোলা-১ লঞ্চ ও মাষ্টার আটক ॥ রুট পারমিট বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নৌ-বন্দরের পন্টুন ক্ষতিগ্রস্থ করায় বরিশাল-ঢাকা রুটের কীর্তনখোলা-১ লঞ্চসহ মাষ্টারকে আটক করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এছাড়াও লঞ্চটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনগত গভীর রাতে নৌবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে লঞ্চটি চরে উঠিয়ে দেয়ায় যাত্রীরা ভাংচুর করেছে। যাত্রী ও ষ্টাফদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আটক লঞ্চ’র মাষ্টার হলো-মো. আব্দুস সালাম।
যাত্রীরা জানায়, ধারনক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় চরে উঠিয়ে দেয়। আধা ঘন্টা চেষ্টার পর যখন চর থেকে নামানো যায়নি। তখন যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখন লঞ্চ ষ্টাফদের সাথে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে যাত্রীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন যাত্রীরা লঞ্চের মাষ্টার ব্রিজসহ কেবিনের জানালা, টিভিসহ আসবাপত্র ভাংচুর করে। ঘন্টাখানেক চেষ্টার পর লঞ্চ চর থেকে নামানোর পর দ্রুত গতিতে ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঘাটে ভেড়ার পূর্বে লঞ্চের গতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ব্যর্থ হয়। এতে লঞ্চ সজোরে এসে পন্টুনে আঘাত করে। তখন লঞ্চের এক যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে। পন্টুনসহ লঞ্চের সামনের অংশ মারাতœক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নদীতে পড়া যাত্রীকে নৌ-পুলিশ উদ্ধার করে।
বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক মো. রিয়াদ হোসেন জানান, এই ঘটনার পর লঞ্চ ও মাষ্টারকে আটক করা হয়েছে।
একই দপ্তরের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু জানান, লঞ্চের পরবর্তি যাত্রী বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও লঞ্চের বিরুদ্ধে মেরিন ও ফৌজদারী আইনে পৃথক মামলা করা হবে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।
এদিকে ঈদের এই মুহুর্তে লঞ্চটির যাত্রা বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়বে অগ্রিম টিকিট নেয়া যাত্রীরা। শেষ মুহুর্তে তারা ভোগান্তিতে পড়বেন।