কীর্তনখোলায় ৫ মিলিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলে তলিয়ে যাবে গোটা নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তরাঞ্চলের পানি নামতে শুরু করায় বৃদ্ধি পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি। বিশেষ করে বিপদ সীমা অতিক্রম করে কীর্তনখোলার জোয়ারের পানি ছড়িয়ে পড়েছে শহরের লোকালয়ে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল। খালের মাধ্যমে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে নগরের মূল শহরেও। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাটু সমান জলাবদ্ধতার করনে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। শুধু তাই নয়, আর মাত্র ৫ মিলিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলে কীর্তনখোলার পানি সরাসরি বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পরিনত হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে নিম্ন চাপের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের নেমে আসা পানির চাপে জলাবদ্ধতা বরিশাল শহরের গত ৫০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ইতিপূর্বে অমবস্যা এবং নিম্নচাপের কারনে শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও মূল শহরে জোয়ারের পানি প্রবেশের নজির খুবই বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই সাগরে নিম্ন চাপ সৃষ্টি হয়ে আছে। এর ফলে প্রতিদিনই থেমে থেকে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সাথে বন্যার পূর্বাভাস এবং দমকা হওয়া বইছে। এর ফলে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের কীর্তনখোলা, মেঘনা, পায়রা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা সহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

 

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেইজ পাঠক আব্দুর রহমান বলেন, গত দু’দিন পূর্বে ছিলো অমাবস্যা। বর্তমানে সাগরে সৃষ্টি হয়েছে নিম্ন চাপের। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে জমে থাকা পানি নামতে শুরু করেছে। এর ফলে কীর্তনখোলা সহ অন্যান্য নদীর পানি ইতিমধ্যেই বিপদ সীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর পানির স্তর ছিলো সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬২ মিলিমিটার। আর বেলা সাড়ে ১২টায় ভাটার সময় পানির স্তর ছিলো সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৭৯ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।

 

আব্দুর রহমান আরো জানান, ২ দশমিক ৫৫ মিলিমিটার এর বেশি পানি নদীর জন্য বিপদ জনক। কিন্তু বর্তমান সময় পানির স্তর ৭ মিলিমিটার বেশি। অবশ্য এর পূর্বে গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় কীর্তনখোলার পানির সর্বোচ্চ স্তর ছিলো ২ দশমিক ৭৯ মিলিমিটার। তার থেকে শুক্রবার পানির স্তর একটু কম ছিলো।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক আব্দুর রহমান বলেছেন, কীর্তনখোলার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ইতিমধ্যেই বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে আর ৫ মিলিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলে কীর্তনখোলা নদীর পানি সরাসরি নগরীর উচু স্থানেও পৌছে যাবে। দু’একদিনে পানির স্তর আরো বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

এদিকে শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত পলাশপুর, মোহাম্মদপুর, চাঁদমারী ও কেডিসি কলোনী (বস্তি), কাশিপুর, কালিজিরা, নগরীর পোর্ট রোড সংলগ্ন রসুলপুর চর কলোনী, রূপাতলীর দপদপিয়া’র বহু বাড়ি ঘর ও স্কুল-কলেজের ভেতরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। ডুবে গেছে টিউবয়েল ও শৌচাগার।

 

বিশেষ করে নগরীর নিম্নাঞ্চলের মধ্যে ভয়াবহ পরিনতি সৃষ্টি হয়েছে রসুলপুর চর কলোনী এবং পলাশপুর এলাকা। নিম্নাঞ্চল ছাড়াও শহরের জিয়া নগর, রাজাবাহাদুর সড়ক, নবগ্রাম রোডের রায়াপাশা-কড়াপুর, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকা, ভাটিখানা, কাউনিয়ার অংশ বিশেষ, সাগরদী, বদ্ধভূমি এলাকা ও সদর রোডের বেশ কিছু স্থানে খাল থেকে কীর্তনখোলার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতে যে পরিমান পানি বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে গত ৫০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এই সময়ের মধ্যে নদীর পানি শহরে প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

 

তবে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে সদর রোড সহ আশপাশের এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে হাটুসমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাও পরবর্তীতে ড্রেন এবং খালের মাধ্যমে নদীতে নেমে যায়। কিন্তু কীর্তনখোলা নদীর পানি সরাসরি শহরের প্রবেশের ঘটনা বিরল বলেও মনে করছেন তারা।